Home / জাতীয় / খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক

বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা। আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানিয়ে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডাক্তার সরকার মাহবুব আহমেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতো অসুস্থ যে তিনি কারো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া এমনকি শরীরের তীব্র ব্যথার কারণে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না। যেকোনো সময় তিনি স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করতে পারেন। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগজনিত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তার কিছু হলে তার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে সরকারের বলেও দাবি করেন তারা।

ডা. শামীম লিখিত বক্তব্যে বলেন, আগামীকাল ৫ই ডিসেম্বর আদালত বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছে। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপোষহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও ১/১১ পরবর্তী সময় তা ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, ১/১১ সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত একটি ভিত্তিহীন মামলায় আদালতের রায়ে বর্তমানে তিনি কারাবন্দী আছেন। একইসময়ে একই রকম মামলা যা ক্ষমতসীন দলের নেতাকর্মীদের নামেও ছিলো তা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অন্যরাও অধিকাংশ জামিনে আছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেগম খালেদা জিয়া তার স্বাভাবিক আইনগত অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

এসব জটিলতার কারণে তার হাত এবং পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে যার কারণে জয়েন্টগুলি Stiff (শক্ত) এবং deformed (বাঁকা) হতে চলেছে, যা কিনা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে এবং যার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্তও খেতে পারছেন না।

ডা. শামীম বলেন, গত পরশুদিন (সোমবার) ডাক্তাররা বেগম খালেদা জিয়ার ওজন মাপতে বারবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তীব্র ব্যাথায় তিনি বিছানা থেকে নামতে পারেননি। তাছাড়া তিনি ব্যাথার কারণে ঘুমাতেও পারছেন না ভালোভাবে। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো- ওনার ডান পায়ে একটি গুটি ওঠেছে যাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় Rheumatic nodule বলে যা highly tender বা স্পর্শ করা মাত্রই তীব্র ব্যাথা অনুভুত হয়। যেটি পরবর্তীকালে vasculitis কিংবা gangrene এ পরিণত হতে পারে ।

তিনি বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে বেগম জিয়া Methotrexate নামক একটি ঔষধ Rheumatoid Arthritis এর জন্য খাচ্ছেন যা কিনা লিভার, কিডনীসহ রক্তের সকল সেলসমুহ কমিয়ে দিয়ে pancytopenia নামক ভয়ঙ্কর এক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া ম্যাডামের ডায়াবেটিস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, কারণ একটা ছোট বদ্ধ ঘরে এতদিন হাটাচলার সুযোগ পাননি। Sjogren syndrome কারণে চোখ শুকিয়ে যায় তাই দিনে কিছুক্ষণ পরপর artificial tear দিতে হয়।

ড্যাবের এই নেতা বলেন, ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজ পায়ে হেটে জেলখানায় প্রবেশ করেন, নিজে হেঁটে দোতলায় তার নির্ধারিত রুমে যান, এমনকি জেলখানা থেকে এর আগেরবার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন তখন গাড়ি থেকে নেমে নিজে লিফ্ট পর্যন্ত হেঁটে যান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি কিভাবে আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলাম টিপু, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ড্যাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. মো. আবদুস সেলিম, ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ডা. মাসুম বিল্লাহ, ডা. গালিব প্রমুখ।

Check Also

একুশে বইমেলা শুরু ১৮ মার্চ

যমুনা নিউজ বিডিঃ করোনা পরিস্থিতির কারণে বইমেলা অনলাইনে হবে কি-না এমন গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com