July 13, 2024, 5:32 am

শেখ হাসিনাকে বিশ্বনেতাদের জোটে চায় দুটি সংস্থা

যমুনা নিউজ বিডি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল ফান্ড ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নেতারা গ্লোবাল ফান্ডের চ্যাম্পিয়নদের জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। বুধবার (১২ জুন) গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস ও স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা দিতিউ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় এ আবেদন জানান।

সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সংস্থা দুটির নেতাদের তালিকায় রয়েছেন। সংস্থা দুটি মূলত বাংলাদেশে টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া এবং এর অর্থায়ন নিয়ে কাজ করে।

প্রেস সচিব বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বিস্তৃত ও গভীর করতে চায়। তারা চান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তহবিল সংগ্রহের জন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন।

তিনি বলেন, উভয় নির্বাহী পরিচালকই টিবি, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া সম্পর্কে জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন এবং এটিকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উল্লেখ করেন। পাহাড়ি এলাকা ছাড়া বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাংলাদেশের এইচআইভি পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অর্জনগুলো তারা তুলে ধরবেন।

আগামী দিনে তাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দুই নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি যোগ দিলে বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশের চাহিদাও জোরালো হবে।

তারা উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই সাফল্যগুলো অর্জন করেছে এবং আর কিছু সহায়তা পেলে বাংলাদেশ এসব রোগ নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্পর্শ করার সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

বৈঠকে গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস এবং স্টপ টিবি পার্টনারশিপের নির্বাহী পরিচালক ড. লুসিকা ডিটিউ দাবি করে বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ যক্ষ্মা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মারা যায়।

প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে জানতে চান। তারা জানান, তাদের তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৬ হাজার থেকে ২৭ হাজার মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যক্ষ্মাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বের করতে একটি জরিপ চালাতে বলেন। গ্লোবাল ফান্ড এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।

দ্রুত টিবি শনাক্ত করতে এআই চালিত হাই-টেক এক্স-রে মেশিন দিয়ে দেশে মোবাইল ডায়াগনস্টিক ডেভেলপমেন্ট পরিচালনায়ও বাংলাদেশকে সাহায্য করবে বলে জানান দুই নির্বাহী।

প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও দুই নির্বাহী পরিচালক দেশের এইচআইভি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন। তারা সম্মত হন যে ‘এইচআইভি সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রচেষ্টা বন্ধ করা উচিত নয়, যদিও বাংলাদেশ এই বিষয়ে খুব ভালো করছে। এতে অবশ্যই আত্মতৃপ্তিতে ভোগা উচিত হবে না, যা খারাপ সংবাদ বয়ে আনতে পারে।

তখন শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্জন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং দেশকে আরও ভালো অবস্থানে আনতে পারে, সে জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরালোভাবে চালিয়ে যেতে হবে। অপুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতাকে যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি ক্লিনিক ইস্যু সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তার কার্যক্রম এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে সহায়তা করছে, তা বর্ণনা করেন।

নাঈমুল ইসলাম খান আরও বলেন, তারা বাংলাদেশের সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশের জন্য তহবিল নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।

বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD