রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩৮ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে আলু ৮ টাকা কেজি দরে বিক্রয়

যমুনা নিউজ বিডিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি আলু চাষের জন্য বেশ উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছর আলু চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এ জেলায়। দেশে আলু উৎপাদনে ঠাকুরগাঁওয়ের অবস্থান ২য়। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা হয় এখানকার আলু। কিন্তু এবার আগাম আলুর দাম না পেয়ে লোকসানে পড়েছে চাষিরা। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা দরে তবুও মাঠে ক্রেতা নেই।

গত বছর অধিক দামে আগাম আলু বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় এবারও লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলেন কৃষক। কিন্তু আগাম আলুর বাজারে ধস নামায় লোকশান হচ্ছে তাদের। গত বছর চাষীরা এই সময় প্রতি কেজি আলু মাঠেই বিক্রি করেছিলেন ২৫-৩০ টাকা দরে আর এবার সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮ টাকা দরে।

সাধারণত মাটিতে এক বার আলু রোপণ করলে এক বার ফলন পাওয়া গেলেও এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন। চাষিরা এবার দুই বার আলু রোপণ করে ফলন পাচ্ছেন মাত্র এক বার। আগাম আলু রোপণের কয়েকদিন পড়ে বর্ষার শেষের বৃষ্টিতে রোপনকৃত আলু মাঠেই পচে যায়। আবারও লাভের আশায় সেই জমিতে আলু রোপন করেন চাষীরা। সে কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে চাষীদের। তাছাড়া বাজার অবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানে পড়েছেন চাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার পাঁচ উপজেলায় এবার ২৭ হাজার ৬৪৭ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৭শ ৭০ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন করা হয়েছে। আলু উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২৪ মেট্রিক টন। বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতক) চাষিরা দাম পাচ্ছেন ৯০-১০০ হাজার টাকা। আর প্রতি হেক্টর আলুর উৎপাদন খরচ হয় প্রায় দুই লাখ টাকা।

গত বছর জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। আর উৎপাদন হয়েছিল ৭ লক্ষ ৪১ হাজার ২৯৭ মে.টন।

সদর উপজেলা নারগুন এলাকার আলু চাষী আব্দুল মজিদ বলেন, আমি এবার ৩ একর জমিতে আলু চাষ করেছি। গতবছর আলুর ভাল দাম পেয়ে লাভবান হয়েছিলাম, কিন্তু এবারে আলু করে ৮.৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হল তাও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এবারে আলু করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ আমি।

ওই এলাকার আরেক চাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারে কীটনাশকের দাম অনেক বেশী ছিল। আর এবারে আলুর দাম কম, অনেক লোকসান হবে এবার আমাদের। এক মণ আলু বিক্রি করে একটা কামলা খরচ দিতে হয়। তাহলে হিসেব করেন আমাদের অবস্থানটা কোথায়। আমরা এবার আলু করে লোকসানে পরে গেলাম।

সদর উপজেলার সালান্দর এলাকার আলু চাষি মাজেদুর বলেন, গত বছর আলুর দাম বেমি ছিল আর কম ফলনেও ভালো লাভ হয়েছে। এবার বেশি ফলনেও লোকশান হচ্ছে। এবার লাভ তো দুরের কথা আসলও তুলতে পারছিনা। কম দামে আলু বিক্রি করে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তার পরেও নগদ টাকার ক্রেতা নেই।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত বছরের বাড়তি আলুর মজুদ শেষে হলে বাজারের অবস্থা ঠিক হবে আশা করছি। সেই সাথে আলুর ফলন ভালো হলে চাষিদের লোকশান পুশিয়ে যাবে। চাষকৃত আলু এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। চাষিদের যে কোন পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com