রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৫৪ অপরাহ্ন

বগুড়ায় ১২ নৌকা, বিদ্রোহী ৩, স্বতন্ত্র ১২

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বগুড়ার তিন উপজেলায় নৌকা প্রতীকে ১২, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৩ ও স্বতন্ত্রভাবে ১২ জন বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার রাতে তিন উপজেলার নির্বাচনী কন্ট্রোল রুম থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে এদিন সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সদর, শাজাহানপুর ও ধুনট এ তিন উপজেলার ২৭ ইউনিয়নের ২৬০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে।

এবারে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে এনামুল হক, নামুজায় নৌকা প্রতীকে রফিকুল ইসলাম।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন নুনগোলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে বদরুল আলম, গোকুলে আনারস প্রতীকে আ.লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউর রহমান, নিশিন্দারায় মোটরসাইকেল প্রতীকে সহিদুল ইসলাম, লাহেড়িপাড়ায় মোটরসাইকেল প্রতীকে জুলফিকার আবু নাসের, শেখেরকোলায় মোটরসাইকেল প্রতীকে রশিদুল ইসলাম মৃধা ও সাবগ্রাম ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকে ফরিদ উদ্দিন।

শাজাহানপুরের নৌকা প্রতীকে বিজয়ীরা হলেন আশেকপুর ইউনিয়নে ফিরোজ আলম, মাঝিড়ায় নুরুজ্জামান, খরনায় সাজেদুর রহমান শাহীন, খোট্টাপাড়ায় আব্দুল্লাহ আল ফারুক, চোপিনগর ইউনিয়নে মাহফুজার রহমান বাবলু ও গোহাইল ইউনিয়নে আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু। তাদের মধ্যে খরনা ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন সাজেদুর রহমান শাহীন।

ঐ ইউনিয়নের বাকি তিন ইউনিয়নে বিজয়ীরা হলেন- আড়িয়া ইউনিয়নে টেবিলফ্যান প্রতীকে বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান, আমরুলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকে সাইফুল ইসলাম বিমান ও মাদলায় ঘোড়া প্রতীকে বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান আতিক।

ধুনটের নৌকা প্রতীকে বিজয়ীরা হলেন- সদর ইউনিয়নে এসএম মাসুদ রানা,  এলাঙ্গীতে তোজাম্মেল হক, নিমগাছীতে সোনিতা নাসরিন, মথুরাপুরে হাসান আহম্মেদ জেমস মল্লিক।

স্বতন্ত্রভাবে বিজয়ীরা হলেন- কালেরপাড়ায় মোটরসাইকেল প্রতীকে সাজ্জাদ হোসেন শিপন, চিকাশিতে মোটরসাইকেল প্রতীকে জাকির হোসেন জুয়েল, গোসাইবাড়িতে ঘোড়া প্রতীকে মাসুদুল হক বাচ্চু, ভান্ডারবাড়িতে মোটর সাইকেল প্রতীকে বেলাল হোসের বাবু ও চৌকিবাড়িতে আনারস প্রতীকে  হাসানুল করিম পুটু।

নৌকার প্রার্থীর ভোট বর্জন

এদিকে দলীয় নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে অসহযোগিতা করছেন, এমন অভিযোগ তুলে বগুড়ার সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকা মার্কার প্রার্থী আলীম উদ্দিন ‘ভোট থেকে সরে আসার ঘোষণা’ দেন। গত শনিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

ইউনিয়নের পলিকুকরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, ‘নৌকা মার্কা ছাড়া সব মার্কার এজেন্ট আমার এখানে আছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।’

এবার নুনগোলা ইউপি নির্বাচনে আলীম উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর তার বিরোধীতা করে ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলমও নির্বাচনে অংশ নেন। আর শুরু থেকেই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তবে নির্বাচনের আমেজ শুরুর পর থেকেই সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ছুরিকাঘাটের একাধিক ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে থানায় দুই পক্ষ থেকে মামলাও করা হয়েছে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষ, হামলা, মামলা কারণে ভোটের মাঠে কার্যত একা হয়ে পড়েছেন আলীম উদ্দিন। তিনি আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন এবার নির্বাচনে তার পরাজয় ঘটতে পারে। আর নুনগোলা বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা। রাজনৈতিক দিক থেকেই এখানে নৌকার প্রার্থীর বিজয় অনেক চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে মাঠে। সব মিলে নির্বাচনের এই সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশে না পেয়ে হয়তো আলীম উদ্দিন ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষাণা দিয়েছেন।

বিষয়গুলো স্বীকারও করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত এই প্রার্থী। নৌকা মার্কার প্রার্থী আলীম উদ্দিন জানান, ‘আমাকে আমার দলীয় নেতা-কর্মীরা অসহোযোগিতা করছেন। আমার দুই ভাই বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে। আমি এজন্য নির্বাচন থেকে সরে এসেছি। কেন্দ্রে এজেন্টও দেইনি। আমি নিজেও ভোট দিতে যাব না।’

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com