বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

বেনাপোলে প্রতি ট্রাকে ১৫০ টাকা চাঁদাবাজি

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ দেশ সেরা স্থলবন্দর বেনাপোলে সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদাবাজিতে মেতেছে ঝিকরগাছা ট্রাক মোটর শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েকটি চক্র। কোন ভাবেই এদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব না হওয়ায় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিয়েছে ঝিকরগাছ, শার্শা ও বেনাপোল বন্দর ট্রাক মালিক সমিতি।
যশোর জেলা (ঝিকরগাছ, শার্শা ও বেনাপোল বন্দর) ট্রাক-ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। যে বন্দর বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় একটি অংশ। বন্দরকে সচল রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারসহ স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন সার্বক্ষণিক চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতে রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক হতে বেনাপোল চেকপোস্টে শ্রমিক নামধারী চাঁদাবাজরা ট্রাকপ্রতি ১৬০-২০০ টাকা করে চাঁদাসহ পণ্যবাহী ট্রাকের সিরিয়াল আগে পাইয়ে দিতে ট্রাকপ্রতি ১৫০০-২০০০ টাকা আদায় করছে।
সরকার যখন পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করছে তখন বেনাপোল চেকপোস্টে চাঁদাবাজরা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করছে। অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধ না হলে যেকোনো সময় বেনাপোল চেকপোস্টে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি গেট এলাকায় দেখা যায়, যশোর জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি, ট্রাক্টর ও কাভার্ড ভ্যান মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক প্রত্যেক রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসের নাম করে চাঁদা ৫০ টাকা। তারা প্রতি ট্রাক থেকে আদায় করছে ১৫০ টাকা। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন রফতানি পণ্যবাহী ট্রাকের চালকরা।
একজন ট্রাকচালক জানান, সরকার ট্রাক থেকে চাঁদা নিতে নিষেধ করলেও বেনাপোলের কয়েকটি সিন্ডিকেট ওয়ারি রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করছে। তারা কিছুতেই চাঁদা না নিয়ে ভারতে ট্রাক প্রবেশ করতে দেয় না। ঝিকরগাছা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেনাপোলের সহিদুল ও কান ফুটানো আলমগীরসহ কতিপয় ব্যক্তি রফতানি ট্রাক থেকে ১০০ টাকা ও ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসের জন্য ৫০ টাকা চাঁদাসহ মোট ১৫০ টাকা নিচ্ছে।
যশোর জেলা ট্রাক-ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের বেনাপোল শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন এ রফতানি গেট দিয়ে গড়ে ১০০ ট্রাক পণ্য নিয়ে ভারতে যাতায়াত করে। সংগঠনের বেকার সদস্যদের স্বার্থে গত ৭ অক্টোবর থেকে ট্রাক প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছি আমরা।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ওসি মামুন খান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের কাছে চাঁদার সত্যতা যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো চালক মুখ খুলতে রাজি না হওয়ায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়নি এখনো পর্যন্ত।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com