শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় বিআরডিবি ভবনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উচ্ছেদ চেষ্টাতেও অনিয়ম

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ অবৈধভাবে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে বগুড়ায় মানববন্ধন করা হয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ইমাম হাসান হোসাইন (রাঃ) বহুমুখী দারুস সুন্নাহ মাদরাসা’। এটি শহরের কৈগাড়ী এলাকায় সিও অফিসের একটি সরকারি ভবনে অবস্থিত।

এদিকে সরকারি ভবন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়ার কোনো বিধান নেই বলেছেন সদর উপজেলার বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তবে কীভাবে ওই মাদরাসা কতৃপক্ষ ভবনটি ভাড়া পেল এটা তৎকালীন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

মাদরাসা উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে গতকাল রোববার দুপুরে শহরের সাতমাথা এলাকায় মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গনে মানববন্ধন সমাবেশ করা হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রসার শিক্ষক মাওলানা গোলাম আজম, রাজ সিদ্দিকী, রনি, আহম্মেদ আলী, সাব্বির, মনির, রেজাউল, অভিভাবক আমিনুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, মীর আলম, পলাশসহ আরো অনেকে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়র বোর্ডের (বিআরডিবি) কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারী বগুড়া কৈগাড়ী সিও অফিসের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা। চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তারা এই ভবনটি ভাড়া নেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ না হতেই বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ তাদের ভবনটি ছেড়ে যেতে বলছেন। এমনকি গত ২০ আগস্ট ভবনের দেয়ালে লেখা মাদরাসার নামসহ কুরআন হাদিসের বাণী মুছে ফেলেছে বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, তারা যখন ভবনটি ভাড়া নেন, তাদেরকে বিআরডিবি থেকে বলা হয় আপনারা কাগজে-কলমে সাত হাজার টাকা ভাড়া দিবেন। আর আমাদেরকে দিবেন ১৫ হাজার টাকা। এতে শিক্ষকরা রাজি না হয়ে সরাসরি ১৫ হাজার টাকাই ব্যাংকে গিয়ে সরাসরি ভাড়া দিয়ে আসছেন। কিন্তু এরমধ্যেই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বিআরডিবি।

মাদরাসার শিক্ষক মোহাম্মদ রাজ সিদ্দিকি আলআমিন বলেন, ‘ আমরা যখন ভবনটি ভাড়া নেই ওই সময় এটি ছিল পরিত্যক্ত। ভবনটি পাঠদানের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে আমাদের ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। ওই সময় বিআরডিবি আমাদের বলে সরকার থেকে বরাদ্দ পেলে এই টাকা পরিশোধ করা হবে অথবা ভাড়া হিসেবে কেটে নিয়ে ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ভাড়া দিয়ে এসেছি। শুধু করোনা পরিস্থিতিতে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। কিন্তু বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে ঘুষ না পেয়ে এমন করছে।’

প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষক মাওলানা গোলাম আজম বলেন, ‘ আমরা বিআরডিবির অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায়, আমাদেরকে এখান থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করা হচ্ছে। অথচ আমাদের চুক্তির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। আগামী বছরে এপ্রিল মাসে আমাদের  চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।’

জানতে চাইলে বগুড়া সদর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন (বিআরডিবি) কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু তারা ১৬ মাস ধরে আমাদেরকে ভাড়া দেয় না। বর্তমানে আমরা ভবনটি নিজস্ব প্রয়োজনে আমরা ব্যবহার করতে চাচ্ছি। একারণে তাদেরকে এটা ছেড়ে চলে যাওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা কোনো সংস্কার করেননি। এটার কোনো চুক্তি নেই।’

এদিকে, প্রতিষ্ঠানের ও বিআরডিবির চুক্তিপত্রের ৭ নম্বর শর্তে লেখা রয়েছে, বর্তমানে ভবনটি দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার না করাতে জানালা, দরজা, ভবনের রং-চুন ও বৈদ্যুতিক লাইনসহ অনেক কিছু নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। সুতরাং ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করতে ২য় পক্ষ ও ১ম পক্ষের অনুমতি ও সার্বিক তত্ত¡াবধায়নে অতি অল্প খরচে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবে এবং যেহেতু ভবনটি সরকারি সুতরাং পরবর্তীতে সরকারি বাজেট আসলে সেখান থেকে ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে ভবনটি মেরামতজনিত খরচ পরিশোধ করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘ বরাদ্দ পাওয়া গেলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে খরচের টাকা দেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ আমরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা দাবি করিনি। নিজস্ব প্রয়োজনে তাদেরকে ভবনটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে  ২০২২ সালের ১ এপ্রিল মাসে। তারা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারী ভবনটি ভাড়া নিয়েছিল।’

এদিকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, ভবন সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ এসেছিল, কিন্তু বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এখন তাদেরকে ভবন থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবিধানের অনুযায়ী সরকারি ভবন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়া যায় না কীনা জানতে চাইলে
বিআরডিবি কর্মকর্তা মিজানুর বলেন, ‘এটা বলা চলে গোঁড়াতেই গলদ ছিল। সংবিধান অনুযায়ী সরকারি ভবন কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়ার বিধান নেই। কীভাবে এটা হলো, বিষয়টি তৎকালীন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com