সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

বরগুনার এসপি’র তৎপরতায় পুলিশ সম্পর্কে পাল্টে গেছে ধারনা

বরগুনা প্রতিনিধি: পুলিশ মানেই রুক্ষ মুখ, নীল পোশাক আর লাঠিপেটা করার যন্ত্র নয়, পুলিশের কঠোর বহিরঙ্গের আড়ালে নরম একটা মন আছে সেই ধারনা শাখা প্রশাখা ছড়াতে শুরু করেছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেবার পর তা আরো স্পস্টই হয়ে উঠছে। মানবিক পুলিশের আচরনে পুলিশের প্রশংসা মানুষের মুখে মুখে।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলছে সাধারণ ছুটি। কিন্তু ছুটি নেই পুলিশের । দিন রাত কাজ করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নয়। কাজ করছে সব শ্রেনীর মানুষের জন্য,সব রকম কাজ,সাধারণ মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিচ্ছেন। এইতো চলমান পরিস্থিতিতে বরগুনার  পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি গরীব অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী  পৌঁছে দিয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য তিনি প্রতিটি উপজেলায় নিজে গিয়ে প্রচার-প্রচারণা করছেন এবং করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। বরগুনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে সরকার ঘোষিত সর্বাত্বক লকডাউনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন,  সচেতনতা মূলক প্রচার-প্রচারণা মাক্স হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছেন তিনি। শুধু পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক নয় এরকমটা দেশের সব পুলিশই চেষ্টা করছে। করোনাভাইরাস এ কেউ মারা গেলে স্থানীয় লোকজন পরিবারের লোকজন পর্যন্ত কাছে আসছে না এখানে পুলিশ জানাযা থেকে দাফন পর্যন্ত করছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে করোনার ভয়ে ছেলে-মেয়েরা মাকে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে গেছে অথবা চরে ফেলে আসা হয়েছে করোনাক্রান্ত মনে করে।এমন সব মানুষদের তুলে নিয়ে সেবা দিচ্ছে পুলিশ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিষয়টি স্পষ্ট আমাদের দেশে এত বড় সংকট পূর্ণ মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে পুলিশ।  ডাক্তার ও সংবাদকর্মী ভাইয়েরা ।এদিকে, দিন রাত এক করে দেওয়া পুলিশের মধ্যেও করোনাতাংক বিরাজ করছে ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে অনেক পুলিশ। সারাদেশে পুলিশের বেশি সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। সংক্রমক ঠেকাতে চিকিৎসকদের পরই পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আক্রান্ত হয়েছেন ডাক্তারও সংবাদকর্মীরাও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু লাঠি হাতেই নয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, কখনও কখনও পলায়নকৃত করোনা রোগীকে ধরে আনা, করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা, ত্রাণ বিতরণসহ নানা কাজে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। এসব করতে গিয়েই পুলিশ সদস্যরা করোনা সংক্রমিত হচ্ছেন।পুলিশের সুরক্ষার বিষয়ে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা যায়নি। আবার দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেও অনেক পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন। এতে ঝুঁকিও বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী।বিশ্বের এমন পরিস্থিতি একসময় বদলে যাবে। বদলে যাবে বাংলাদেশও। শুধু মানুষের চাওয়া পুলিশের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন থাকুক বিপদ কেটে গেলেও। পুলিশের জন্য ভালবাসাটুকু লেগে থাকুক জন্ম থেকে জন্মান্তরে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com