রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৪ অপরাহ্ন

কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

যমুনা নিউজ বিডিঃ  ইতিহাসের জঘন্যতম, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে। ওইদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আর এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ১৫ আগস্টের বর্ণনা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের দুঃখী জনগণের মুখে হাসি ফোটানোই হবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত প্রতিশোধ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন, সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারব সেদিনই আমি মনে করি এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে পারব।’

শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এরকম যুদ্ধের পর কখনোই এ ধরনের ঘটনা ঘটে না। কিন্তু তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন, ধর্মনিরপেক্ষতা বিশ্বাস করতেন, মানুষের মাঝে বৈষম্য দূর করবেন এইভাবে যখন একটা গণতান্ত্রিক পথে নিতে যান তারপরেও চক্রান্ত চলতে থাকে তখন তিনি সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তারপর একটা লক্ষ্য যে উৎপাদন বাড়াতে হবে, দরিদ্র দূর করতে হবে সেই পদক্ষেপ যখন নিলেন এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে খুব স্বাভাবিক স্বাধীনতাবিরোধী দেশের ভেতরে-বাইরে যাদের আমরা যুদ্ধে পরাজিত করেছি এবং তাদের দোসর তারা এটা মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তো আরও দরিদ্র হবে এতেই তো তাদের কথা ছিল সেটা না হয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে তারা প্রতিশোধটা নিতে চেয়েছিল আর সেই প্রতিশোধে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রক্তের কেউ যেন আর বেঁচে থাকতে না পারে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা জার্মানিতে পৌঁছাই জুলাই মাসের ৩১ তারিখে। আমাদের শেষ কথা হয় জুলাইয়ের ১৩ তারিখে। তারপরেই এ ঘটনা ঘটে। ১৯৮১ সালে ফিরে আসি যখন আওয়ামী লীগ আমাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। তখনও অনেক বাধা, আসার পরেও অনেক সমস্যা অনেক কিছু পার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, কিন্তু আমি এসব কিছুকে গুরুত্ব না দিয়ে আমার চলার পথ ঠিক রেখেছি। আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করেছে। এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে পারে না। বাংলাদেশ সফল হবে, আর এই সফলতা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে। এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই সব বাধাকে আমি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমাদের নেতাকর্মী সকলের সহযোগিতা পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে আর যারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে তারাও সমানভাবে দায়ী। সে দিন বেশি দূরে নেই, যেদিন এ ঘটনার মদদদাতাদের নামও উন্মোচিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বাধীনতা বৃথা যেতে পারে না। স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি বলেন, আজকে খুনিদের বিচার হয়েছে। যারা পাশে ছিল এবং যারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল তারাও সমানভাবে অপরাধী। আমি সবই জানি, বিচারটা জরুরি ছিল। এখন ধীরে ধীরে সবই বের হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ শোক সভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা চেষ্টা ছিল বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরানোর। সেই চেষ্টা করে যখন সফল হয়নি, তখন তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

 

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com