শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৬ অপরাহ্ন

১৫ আগস্ট জঙ্গি হামলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত

যমুনা নিউজ বিডিঃ  ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থাকলেও তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন যারা জঙ্গি হামলা করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রধান টার্গেট হলো বিদেশি মিডিয়ায় আসা। ছোট একটি ঘটনা ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আসতে পারে। এক্ষেত্রে ১৫ আগস্ট তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

১৫ আগস্ট ভেন্যুর আশপাশে না হোক, ভেন্যু থেকে ২ কিলোমিটার দূরেও যদি তারা বোমা ফাটাতে পারে তাহলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ফলে এদিক বিবেচনায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা থাকলেও তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন যারা জঙ্গি হামলা করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রধান টার্গেট হলো বিদেশি মিডিয়ায় আসা। ছোট একটি ঘটনা ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আসতে পারে। এক্ষেত্রে ১৫ আগস্ট তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

১৫ আগস্ট ভেন্যুর আশপাশে না হোক, ভেন্যু থেকে ২ কিলোমিটার দূরেও যদি তারা বোমা ফাটাতে পারে তাহলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ফলে এদিক বিবেচনায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানা গেছে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ জঙ্গিসংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া উগ্রপন্থী বা তাদের সংগঠনের উপর নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশের সবাইকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুলিশের গাড়ি-স্থাপনা খালি বা পরিত্যক্তভাবে ফেলে না রাখা, পুলিশের ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা, চেকপোস্টে তল্লাশি বাড়ানো, সন্দেহ হলে ব্যাগ-দেহ তল্লাশি করা, সন্দেহজনক এলাকায় ব্লক রেইড করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, শোক দিবসকে সামনে রেখে নব্য জেএমবির সদস্যরা বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যাকান্ড সংঘটনসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক বা ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। রাজধানীর পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ডগ স্কোয়াড কে-৯ ইউনিট ও বোম্ব-ডিসপোজাল ইউনিট। থাকবে মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহমেদুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে জঙ্গি হামলা ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে সিটিটিসির সদস্যরা। সন্দেহ হলে জিজ্ঞাবাদ করা হবে। প্রয়োজন মনে করলেই গ্রেপ্তার করা হবে।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে থাকবে তল্লাশি চৌকি। বাড়ানো হবে পুলিশি টহল। পুলিশি নিরাপত্তার পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিরা থেমে নেই। বাংলাদেশে যাতে আর একটিও জঙ্গি হামলার ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। গত পরশুদিন আমরা জঙ্গি সংগঠনের একজন লিডিং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি। তিনি বোমা বিশেষজ্ঞ, অনলাইনে তিনি বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিতেন। নারায়ণগঞ্জের যে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার হয়েছে সেটাও সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়। এই মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি বা নাশকতাকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যে থেমে নেই এতটুকু বলা যায়, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে বাংলাদেশ আরেকটি ঘটনাও না ঘটে।

বর্তমানে তৎপর জঙ্গিরা ছোট ঘটনা ঘটিয়ে বিদেশি মিডিয়ায় আসতে চায়। সে জন্য তারা ১৫ আগস্টের মতো ইভেন্টকে বেছে নিতে পারে। তবে যারা এই তৎপরতা চালাচ্ছিল তাদের পুরো গ্রুপটি ধরা পড়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম। ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে গ্রুপটি এটা ডেভলপ করে আসছিল। দেখেছেন, প্রথমে ৫টি ট্রাফিক পয়েন্টে ছোট ছোট বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তারপর ইনপ্রুভ ডিভাইস এনেছিল। সবশেষ শক্তিশালী বোমা তারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। ধাপে ধাপে তারা উন্নতি করছিল। সেই পুরা গ্যাংটা ধরা পড়েছে।

১৫ আগস্ট ঘিরে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে কমিশনার বলেন, আমরা আশংকার জায়গাটা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সর্বোচ্চ মেধা ও চেষ্টা দিয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। জঙ্গিদের নজরদারির জন্য সাইবার তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, এখন সারা পৃথিবীর সাইবার ওয়াল্ডের মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। জঙ্গিরাও সাইবার মিডিয়া গুলো ব্যবহার করে তাদের রিক্রুটমেন্ট করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে প্রবণতাগুলো দেখছি তা হলো, আফগানিস্তানের যাওয়ার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে, তালেবানদের পক্ষ থেকে। দেশ থেকে তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য অলরেডি কিছু মানুষ হিজরত করেছে। আমরা ধারণা করছি, কিছু মানুষ ইন্ডিয়ায় ধরা পড়েছে। আর কিছু মানুষ হেঁটে বা অন্য উপায়ে আফগানিস্তানের পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, শুধু আমরা না, সাইবার ওয়ার্ল্ডে বিভিন্ন সংস্থা তাদের মনিটর করার চেষ্টা করছে। যখনই সন্দেহভাজন কিছু পাওয়া যায়, আমাদেরকে জানানো হয়। যত গোয়েন্দা সংস্থা আছে সবাই তৎপর আছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, শোক দিবসে নব্য জেএমবির হামলার আশংকা রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। শোক দিবসের যেসব ভ্যানুতে অনুষ্ঠান সফল করতে নিরাপত্তা বলায় তৈরি করতে সবাইকে নিরাপদ রাখতে মাঠে থাকবে পুলিশ বসানো চেকপোস্ট।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া মো. সোহেল রানা বলেন, নব্য জেএমবির হামলা রোধে নজরদারীতে থাকবে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com