সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন

নলডাঙ্গায় হাত বাড়ালেই মিলছে পর্নো ছবি-ভিডিও

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের নলডাঙ্গায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে পর্নো ছবি ও ভিডিও। উপজেলায় পর্নো ছবি এখন মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

উঠতি বয়সী যুবকদের কাছে পর্নো ছবি সহজলভ্য হয়ে উঠায় তরুণ ও যুবসমাজের একটি বৃহৎ অংশের কাছে এখন মাদকের নেশার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে দেখা দিয়েছে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও দর্শন করা।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যেক এলাকায় বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে (সিনেমা ও গান লোড) সহজেই মিলছে এসব পর্নো ছবি ও ভিডিও। উপজেলায় বিভিন্ন নামে-বেনামি প্রতিষ্ঠানে চলছে জমজমাট এ ব্যবসা।

প্রযুক্তির উন্নয়নে সিনেমা, নাটক, বিভিন্ন ভিডিও মেমোরি  কার্ড ও পেনড্রাইভে করে সহজে বহন করা যায় এবং এগুলো মোবাইলসহ টিভিতে দেখা যায়। এর সঙ্গে কৌশলে বিক্রি করা হচ্ছে পর্নো ছবি; যা দেখে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা পর্নে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পর্নো ছবি ক্রয় করে। এসব পর্নো ছবির ছোবলে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে।

প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা সিনেমা, নাটক ও গান বিক্রির অন্তরালে বিশেষ ইশারায় এসব পর্নো ভিডিও বিক্রি করছে।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে, তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

উপজেলার পশ্চিম মাধবনগর গ্রামের উড়তি বয়সী এক যুবক বলেন, গান লোডের দোকানে এই ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এসব ছাড়া ব্যবসা চলে না, কেউ লোড দিতে চায় না। ছেলেদের পাশাপাশি কৌশলে মেয়েরাও পর্নোগ্রাফি লোড দেয়।

উপজেলার আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম ফকরুদ্দিন ফুটু বলেন, মহামারির মতো নীল ছবি আমাদের যুবসমাজে ঢুকে পড়েছে। এর কারণে পড়াশোনায় অনেকেই অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অভিভাবকরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তরুণদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জেলা ও উপজেলা শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় হাট-বাজারে অসংখ্য স্থানে গান লোডের দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানের অধিকাংশতেই অশ্লীল ভিডিও ও ছবি বিক্রি করা হয়। এ কারণে শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে অভিভাবক মহল।

দেশের অবৈধ এ পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র মোবাইলের মেমোরিতে ধারণ ও বিপণন ব্যবসা প্রতিহত করার লক্ষ্যে একটি আইন থাকলেও সরকারের প্রণীত এ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উপজেলার বিভিন্ন  কম্পিউটারের দোকান ও স্টুডিওতে নির্ভয়ে চালানো হচ্ছে অবৈধ অশ্লীল ভিডিও চিত্রের লোড কার্যক্রমের নীল ব্যবসা। হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকায় এদের বেশিরভাগ ক্রেতা কিশোর-তরুণ। মাত্র ১০-২০ টাকায় পর্নো ছবি ও ভিডিও বিক্রি করেন তারা।

নলডাঙ্গার শহীদ নাজমুল হক সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মামুনুর রশীদ তোতা বলেন, উপজেলায় যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে কম্পিউটারের দোকান। যেখানে প্রকাশ্যেই মেমোরি লোডের মাধ্যমে নীল ছবির জমজমাট ব্যবসা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নয়তো দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের তরুণ সমাজ।

নলডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও মাধবনগর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা পর্নে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পর্নো ছবি ক্রয় করে। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় তাদের নৈতিকতার অধঃপতন ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সহজেই জড়িয়ে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব ব্যবসায়ীরা কম্পিউটারের একটি হার্ডডিস্ক লোডের জন্য ১০০-২০০ টাকা নিয়ে থাকেন। আর সেসব হার্ডডিস্ক প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন মাধ্যমে পৌঁছে যায় উপজেলার বিভিন্ন দোকানে। পর্নো ছবি বিক্রির জন্য একাধিক হার্ডডিস্ক ও পেনড্রাইভ ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। সেখানেই পর্নো ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এসব পর্নো ছবি লোড করতে দোকানগুলোতে বিশেষ করে বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর উঠতি বয়সের যুবক ও ছাত্রদের ভিড় লেগেই থাকে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত হয়েছি। আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com