মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

‘অপহরণের শিকার’ যুবক ফিরে এলেন ছয় বছর পরে

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  বগুড়ায় ছয় বছর আগে গুম ও অপহরণের শিকার মোহাম্মদ শামিম (২৬) নামে এক যুবকের নিজ এলাকায় ফিরে আসা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ঘটনায় শামিমকে হত্যার উদ্দেশে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে কারাভোগকারী অপর এক যুবক ও তার স্বজনরা সোমবার তাকে (শামিম) আটকের চেষ্টা চালায়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে শামিম পরে পুলিশের সহযোগিতা নিতে গেলে তার গুম ও অপহরণ কাহিনী বেরিয়ে আসে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের কর্ণপুর উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মোগলা সরদারের ছেলে মোহাম্মদ শামিম পেশায় মধু বিক্রেতা ছিল। তার সঙ্গে পাশের মানিকচক এলাকার মৃত ধলু প্রামাণিকের ছেলে আজিজার রহমানের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বন্ধুত্বের সুবাদে শামিম আজিজারের কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি তার বাইসাইকেলও নেয়। তবে পরে টাকা ও সাইকেল ফেরত না দেওয়ায় আজিজার ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে শামিমকে আটক করে। এরপর শামিমের মা ঝর্ণা বেগমকে মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে আটকের কথা জানিয়ে আজিজার বলে, পাওনা টাকা এবং বাইসাইকেল ফিরিয়ে না দিলে তিনি তার ছেলেকে ফেরত পাবেন না।

ওই ঘটনার ছয় মাস পরেও শামিম বাড়ি না ফেরায় ঝর্ণা বেগম তার ছেলেকে অপহরণ ও গুম করার অভিযোগে আজিজার রহমানকে আসামি করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ আজিজারকে গ্রেফতার করে। প্রায় ৪ মাস কারাভোগ করার পর আজিজার জামিনে বেরিয়ে আসেন। তবে মামলাটির বিচারকাজ শেষ না হলেও শামিম ২০১৮ সালের শুরুতে হঠাৎ এলাকায় ফিরে আসে। বিষয়টি জানার পর শামিমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন আজিজার। যাতে তিনি শামিমের মিথ্যা মামলায় কারাভোগের কথা উল্লেখ করেন।

বগুড়া পৌরসভার ১৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লুৎফর রহমান মিন্টু জানান, সোমবার সকালে মানিকচক এলাকায় ত্রাণ নিতে আসে শামিম। এ খবর পাওয়ার পর আজিজার ও তার স্বজনরা শামিমকে আটক করে তার কাছ থেকে বাইসাইকেল নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন শামিম দৌঁড়ে তার অফিসে যায়।

ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সুজন মিয়া জানান, ছয় বছর আগে অপহৃত এক যুবক ফিরে এসেছে-এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সোমাবর বেলা ৩টার দিকে শামিমকে নিয়ে আসা হয় এবং তাকে বগুড়া সদর থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শামিম জানিয়েছে ছয় বছর আগে আজিজার তাকে আটক করে মারধর করেছিল। ওইদিন সে আজিজারের কাছ থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে সে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে এবং তার আড়াই বছরের জেল হয়। এরপর সে ছাড়া পেলে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসে।

তবে ভুক্তভোগী আজিজার রহমানের ভাই হাফিজার রহমান সাংবাদিকদের জানান, শামিমকে গুম ও অপহরণের মামলায় তার ভাই আজিজারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছিল। এরপর নির্যাতনের মাধ্যমে শামিমকে খুন করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিতে আজিজারকে বাধ্যও করা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে শামিমকে অপহরণের অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। তিনি মিথ্যা মামলার অভিযোগে শামিমের বিচার দাবি করেন।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেহেতু শামীমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া তাকে অপহরণের যে মামলা হয়েছিল সেটার সত্যতা ছিল বলেই চার্জশিট দেওয়া হয়। ওই মামলাটির বিচার চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com