মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

সাদা বক আর কালো পানকৌড়িদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল সাবরুল গ্রাম

মমির রশীদঃ সাদা বক আর কালো পানকৌড়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় সাবরুল গ্রাম। বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে আশেকপুর ইউনিয়নের সাবরুল  গ্রামটিতে প্রতিদিন পাখি দেখতে আসেন পাখি প্রেমি মানুষরা। তবে কেউ চুপিসারে পাখি শিকার করতে গেলে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে। অতিথি পাখিগুলোকে এ গ্রামের মানুষ পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, বগুড়ার জেলা শহর থেকে ৮/৯  কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের সাবরুল গ্রামে  সাবরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে তালুকদারদের কয়েকটি পুকুর পাড়ের পাশে বাঁশ ঝাড় ও জঙ্গী গাছের ডালে সাদা বক পাখি ও কালো পানকৌড়ী আশ্রয় নেয়। তারা প্রতিবছর বাংলা বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে আসতে শুরু করে এবং প্রজনন শেষে বাচ্চা গুলো বড় হওয়ার পর ভাদ্র মাসে চলে যায়। প্রায় ৫ মাস তারা এখানে অবস্থান করে থাকে।

গ্রামের পাশের বিভিন্ন পুকুর আর ফসলের মাঠ থেকে নানা জাতের মাছ, পোকামাকড় ও শামুক-ঝিনুক খেয়ে জীবন বাঁচে এই পাখিগুলোর। নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে বাসা বেঁধে প্রজনন থেকে শুরু করে ডিম দেয়া, ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানো, বাচ্চা বড় করা সব কিছু এখানেই তারা সম্পন্ন করে।

গ্রামবাসী ইনসান আলী বলেন এই জায়গাটি বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখি প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হলে পাখির প্রতি মায়া-মমতা ও ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি পাবে।
বগুড়া শহর থেকে দেখতে আসা ডা: নিধি বলেন, এমন সুন্দর দৃশ্য বর্তমান সময়ে দেখতে পাওয়া বড় কঠিন। সকাল ও সন্ধ্যায় পাখির কলকাকলির এই শব্দ অন্যরকম এক আবহ তৈরি করে, খুবই আনন্দদায়ক।
বাশঁ ঝাড়ের মালিক সজিব তালুকদার বলেন, গত সাত বছর যাবত আমাদের বাঁশঝাড়সহ সাবরুল গ্রামের অনেক বাঁশঝাড় ও বড় গাছে সাদা বক ও কালো পানকৌড়ী গুলো বাসা বেঁধে আসছে। আমারা খুবই অনন্দিত।  এই পাখিগুলোকে যেন শিকারিরা এসে মারা কিংবা বিরক্ত করতে না পারে সেই জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com