শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

বগুড়ায় করোনার টিকা নিতে উপচেপড়া ভিড়

মমিনুর রশীদ শাইনঃ করোনার টিকা নিতে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মানুষের গাদাগাদিতে অনেকেই টিকা নিতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকে বগুড়ায় সাধারণ মানুষের টিকা নেয়ার আগ্রহ বাড়তে থাকে। কেউ দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার মেসেজ পেয়ে আসছেন, আবার অনেকে মেসেজ না পেয়েও ভিড় করছেন হাসপাতালে। এ অবস্থায় বেশ কয়েক দিন ধরে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পলিশ হাসপাতালে মানুষের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় টিকা প্রদানে ডাক্তার ও নার্সদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমানমেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে সকাল ৮টা থেকে টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে দুই বুথে এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পুলিশ হাসপাতালের একটি বুথে টিকা কার্যক্রম চলছিল।

সরেজমিনে সকাল ১০টায় গিয়ে দেখা যায়,মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পুরুষদের টিকা দেয়া হচ্ছে। কক্ষ থেকে শুরু হওয়া লাইন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মাঠ এঁকেবেঁকে একেবারে প্রধান ফটকের কাছে চলে গেছে। এক থেকে দেড়শ মানুষের দীর্ঘ লাইন। হাসপাতাল ভবনে নারীরা দু-তিন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার মানুষ আজ টিকা নিতে এ দুই কেন্দ্রে এসেছেন।

টিকে নিতে আসা গৃহবধূ রওশন বেগম ও আমেনা খাতুন বলেন, ছোট ছোট বাচ্চা বাসায় রেখে সকাল ৯টায় এসেছিলাম। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে একটু আগে টিকা দিতে পারলাম। ব্যাপক ভিড়, ধাক্কাধাক্কি এবং অব্যবস্থাপনার অভাব দেখেছি।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে টিকা নিতে আসা আব্দুল আজিজ (৭৪) ও মজনু মিয়া (৬৫) জানান, টিকা নিতে এসেছি সকাল ৯টায়। এখন বাজে ১২টা। তখন থেকে দেখছি এখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির কোনো তোয়াক্কা নেই। ফলে এখান থেকেই করোনা ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। দ্রুত বুথ বা কেন্দ্র বাড়ানো উচিত।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সামির হোসেন মিশু বলেন, আমরা চেষ্টা করছি শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা দেয়ার। কিন্তু ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামীতে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে চেষ্টা করা হবে। আগের তুলনায় টিকা গ্রহণে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। মানুষের মনে যে শঙ্কা ছিল তা দূর হয়েছে। সরকার বয়সসীমা ২৫ করার পর মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে ধৈর্য ধরে দাঁড়ালে সবাইকে আমরা টিকা দিতে পারব। আগামী ৭ আগষ্ট থেকে ১৮ বছর বয়সীদের টিকা প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ গাউসুল আজিম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com