শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৯ অপরাহ্ন

বগুড়ায় চোর পুলিশ খেলা হচ্ছে কঠোর লকডাউনে

মমিন রশীদ ঃ   সরকারের দেয়া ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধের কোন বালাই নেই বগুড়া শহরে । এখনো চায়ের দোকানে জমে সেই আড্ডা, মাস্ক ছাড়াই চলাচল করে সাধারণ মানুষ। নানা অজুহাতে কোন কারণ ছাড়াই মানুষ বাড়ীর বাহিরে বের হয়।

প্রতিদিন অভিযানে নামে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত , তবে কাজের কাজ যেন কিছুই হয় না। নির্বাহী ম্যাজিস্টেট গন বাজারের একপ্রান্তে অভিযান পরিচালনা করে তো অপর প্রান্তে মানুষই পাহাড়া দেয় পুলিশকে। পুলিশ চলে গেলে চলে সবকিছু আগের স্বাভাবিক নিয়মে। চলছে সাটার আপ ডাউন  খেলা। শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় হাফ সাটার খুলে বসে থাকেন দোকানীরা পুলিশের গাড়ীর শব্দ পেলেই বন্ধ করেন আবার খুলে বসেন। শহরের তিনমাথা, নামাজগড়, কলোনী, ফুলতলা, কাঠালতলা এলাকায় দোকান খুলো ব্যবসা করতে দেখা গেছে। সন্ধ্যায় কলোনী এলকায় বিভিন্ন দোকান খোলা দেখা গেছে, শহরের সাতমাথা এলাকাসহ  বিভিন্ন চায়ের দোকানে আড্ডা করতে দেখো গেছে তরুনদের বিভিন্ন খাবারের দোকান গুলোতে উপচে পড়া ভড়ি দেখা গেছে। ম্যাজিষ্ট্রেট এর সাদাগাড়ী দেখা মাত্র সকল দোকানের আলো নিভে যায় মুহুর্তে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়।

যানবাহন নিয়ন্ত্রনের জন্য শহরের বিভিন্ন চেকপোষ্টে পুলিশের অবস্থান নিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না । সোমাবার শহরে অন্য দিনের চেয়ে যানবাহন বেশী লক্ষ্য করা গেছে । শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে যানজট লেগে ছিল বেশ কিছু সময়। প্রতিদিনই শত শত মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা গুনতে হচ্ছে আটক করা হচ্ছে অটো রিক্সা ও ইলেকট্রিক ইজি বাইক। তবুও নিয়ন্ত্রন হচ্ছে না।

এই বিষয়ে শহর যানবাহন পরিদর্শক  টিআই এডমিন রফিকুল ইসলাম জানান, ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লক ডাউনের ৪ দিনে বগুড়া শহরে ২৩২ মামলা করা হয়েছে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৯লক্ষ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা রিক্সা আটক ২৩২টি  মোটর সাইকেল আটক ৩৭টি  সিএনজি থ্রি হুইলার  ৬ টি।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম জানান, বগুড়া জেলার করোনা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে, অকারণে ঘুরাঘুরি ও মাস্ক ছাড়া বের হলে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

তিনি জানান, জেলার পৌর এলাকাসহ সকল উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগন ও উপজেলা  নির্বাহী কর্মকমতাগন । জেলায় সোমবার সকাল থেকে রাত ২৭ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৮৮ মামলায় ১৮৮  জনকে ১লক্ষ ৬৭হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেন। শুধু বগুড়া সদর উপজেলার পৌর এলাকায় ১১ টি ভ্রাম্যমান আদালতে ৪৭টি মামলায় ৩৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভ্রম্যমান আাদালতের অভিযান চলাকালে মাকের্ট গুলোতে দ্রুত বন্ধ করে দেয়া হয়  একপ্রান্তে অভিযান পরিচালনা হলেও অপর প্রান্তে চলে কেনা কাটা ও মানুষের জনসমাগম। ঠিক যেন চোর পুলিশ খেলা।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com