শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

বগুড়ায় অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে পৌরসভা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  বগুড়ায় সরকারী নিয়ম না মেনে বহুতল ভবন তৈরী করার কারনে অবৈধ বহুতল ভবনের ছড়াছড়ি। পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নিজের মতো করে ভবন নির্মানের কারনে একদিকে অপরিকল্পিত শহর অন্যদিকে ওই সব ভবনের বাসিন্দাদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। তাই বগুড়া পৌরকর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বগুড়া পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০২০-২০২১ ) ভবন তৈরীর জন্য এক হাজার ৫শ নকশা জমা হয় এবং সাততলা পর্যন্ত ভবন তৈরীর জন্য একহাজার ২৮৩টি নকশা অনুমোদন দিয়েছে পৌরসভা। পৌরসভার দেড়শ বছরের ইতিহাসে এটাই এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক নকশা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে বগুড়া পৌরসভা যেকোন সুউচ্চ ভবনের নকশা অনুমোদন দিত। কিন্তু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাবহির্ভূত এলাকায় গত ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সাত তলার উপরে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং গুনগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন (বিসি) কমিটি নামে একটি কমিটি কাজ করছে। সাততলার উপরে উচু ভবন নির্মানে ইচ্ছুক যেকোন ভবন মালিক জেলা প্রশাসকের নিকট নকশা অনুমোদনের আবেদন করার বিধান করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩৪টি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরন করার পর ৬টি বহুতল ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েছে বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন (বিসি) কমিটি। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য সচিব এবং সদস্য রয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী , এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পৌরসভার প্রতিনিধি (প্রকৌশলী) । জমাকৃত অন্য আবেদনগুলো শর্ত পূরন না করায় তাদের আবেদন এখন ও অনুমোদন পায়নি। জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পৌরসভার নিকট থেকে সর্বোচ্চ ৭তলা বা ৭৫ ফুট উচু ভবনের নকশা অনুমোদন নিয়ে ১৫তলা উচু ভবন তৈরী করা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ কেউ পৌরসভার নকশা অনুমোদন ছাড়াই একতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত ভবন নির্মান করেছেন। তাই এসব বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ অপসারন বা ভেঙ্গে ফেলা এবং জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বগুড়া পৌর কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পৌরসভার বিরোধ মিমাংসা বোর্ড সংশ্লিষ্ট ৪টি ভবন মালিককে নোটিশ দিয়ে তাদের সঠিক জবাব না পেয়ে অপসারনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব ভবন হলো ৭নং ওয়ার্ডের জলেশ্বরীতলার শহীদ আব্দুল জব্বার সড়কে গাজী রিয়েল এষ্টেট নির্মিত জেড ওয়াই গাজী টাওয়ার ও ৯নং ওয়ার্ডের সূত্রাপুরের ডাঃ মফিজ উদ্দিন লেনে মফিজ উদ্দিন –-গাজী গার্ডেন সিটি, ১২ নং ওয়ার্ডের কলোনী বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বনানী –মাটিডালী রোডে মালয়েশিয়া প্রবাসী জনৈক সারোয়ার হাজীর ১৫তলা ভবন এবং ৮নং ওয়ার্ডের জামিলনগরের জানে সাবা হাউজিং এলাকার ৯তলা ভবন। সূত্র জানায়, পৌরসভার নিজস্ব সার্ভে মতে পৌর এলাকায় ১৯৪টি ভবন চিহ্নিত করে ১০৬টিকে জবাব দিতে ৭দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান শুরু হয়েছে। উক্ত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিুরদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, অনুনোমোদিত ভবনের স্পেস ক্রয় করে কেউ যেন প্রতারিত না হন সে জন্য জেলা রেজিষ্ট্রার ও বিদ্যুত বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুত বিভাগ তা কার্যকর করেছে। নেসকো বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল জলিল জানান, পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন পত্র ছাড়া নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন নি বলে তাদের সংযোগ স্থগিত রাখা হয়েছে। বগুড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এরশাদুল বারী এরশাদ জানান, বিগত ১০ বছরে অনেক বহুতল ভবন তৈরী হয়েছে যারা পৌরসভার নকশার বাইরে সুউচ্চ ভবন নির্মান করেছেন। এ ছাড়া অনেকে পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই পাকা ভবন নির্মান করেছেন। বগুড়া পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী আল মেহেদী হাসান বলেন, ক্রটিপূর্ণ ১৯৪টি ভবন চিহ্নিত করে ১০৬টি বহুতল ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান শুরু হয়েছে। তারা কেউ কেউ পৌরসভায় যোগাযোগ করছেন। তবে লকডাউনের কারনে শুধু জরুরী কাজ চলার কারনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নেই।তাই ভবন অপসারন সহ এসব কাজে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। তিনি আরো বলেন, ভবন নির্মান কাজ শেষে নকশা অনুমোদনকারী পৌরসভা বা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন বিল্ডিং কনষ্ট্রাকশন (বিসি) কমিটি পরিদর্শন শেষে সনদ নেয়ার পর ব্যবহার করার বিধান রয়েছে। পৌরসভার নিকট থেকে এখন পর্যন্ত কেউ কোন সনদ গ্রহন করেনি। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদিত কোন ভবন নির্মান এখনও শেষ হয়নি। তিনি আরো বলেন, অবৈধ ভবন মালিককে আর্থিক জরিমানা , মালিক কর্তৃক অপসারন, পৌরসভা কর্তৃক অপসারন ও ব্যয়ভার ভবন মালিক বহন করবেন বলে পৌরআইনে বিধান রয়েছে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র মোঃ রেজাউল করিম বাদশা বলেন, অবৈধ ভবন মালিকদের নোটিশ দিলে তারা অনেকেই কর্ণপাত করেন না। তাই আমরা নোটিশ প্রদানের পাশাপাশি বিদ্যুত বিভাগকে চিঠি দিয়েছি যেন তারা অবৈধ ভবনে বিদ্যুত সংযোগ না দেন । সেই সাথে কেউ যেন ফ্ল্যাট কিনে রেজিষ্ট্রি করতে না পারে সেজন্য জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। অবৈধ ভবন মালিকদের বিুরদ্ধে পৌরসভা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অবৈধ ভবন অপসারনে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রতি এক হাজার বর্গফুটের জন্য এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক বলেন, পৌরসভা অবৈধ ভবন অপসারনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে তা দেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com