মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১০ অপরাহ্ন

বগুড়া-গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়কে মেরামত শুরু

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ  বগুড়া-গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়কে পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর ওই সড়কের পাঁচ মাইল থেকে মেরামত কাজ শুরু করেছে বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে করে আপাতত কিছুটা জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। ওই সড়কে পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য স্থানে ছোট বড় গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটির উপর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে। যে কারনে জনসাধারণের পোয়াতে হয় চরম দুর্ভোগ। এ সংক্রান্ত গত ২২জুন/২১ বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এর প্রেক্ষিতে ওই সড়কের পাঁচ মাইল এলাকা থেকে গতকাল মেরামত কাজ শুরু করেছে বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ফলে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ, মিডিয়া কর্তৃপক্ষ ও এই প্রতিবেদককে সাধুবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মহল ও এলাকাবাসি। এ ব্যাপারে বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাদুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওই সড়কে যে স্থানে পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সে গুলো স্থানে আপাতত মেরামত করা হচ্ছে। আর পুনঃনির্মাণ করার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামীতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ দিবেন। তবে বগুড়া শহরের চেলেপাড়া থেকে অদ্দিরগোলা পর্যন্ত এখনো মেরামতের কাজ শুরু করা হয়নি। এ বিষয়ে বগুড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওই সড়কের কিছু অংশ (এক/দেড়) কিলো মিটার পুনঃ নির্মাণ করা হয়েছে। বাকী অংশ প্রায় ৬/৭ কিলো মিটার পুনঃ নির্মাণ করার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামীতে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দ দিবেন।
প্রকাশ, বগুড়া জেলা সদর থেকে গাবতলী উপজেলার সীমানায় গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়ক। গাবতলী উপজেলার মধ্যে এই সড়কের গোলাবাড়ী বন্দর ব্যবসায়ী কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া এই সড়কের সাথে আরো বেশ কয়েকটি বন্দর ও হাট বাজারের সর্ম্পক রয়েছে। এ গুলো থেকে প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। বগুড়া-গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়কে রয়েছে হাট-বাজার, বন্দরে মাছের আড়ৎ থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি চাতালসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি ব্যাংক, বীমা, এনজিওসহ সরকারী বেসরকারী অনেক অফিসও রয়েছে। এই সড়কটির উপর দিয়ে প্রতিদিনই লাখো মানুষ শতশত যানবাহন নিয়ে চলাচল করে। নানা ধরনের যানবাহন ও পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে থাকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, অফিসগামীসহ লাখো মানুষ।
প্রায় ২২কিলো মিটার বগুড়া-গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়কে শহরের চেলেপাড়া থেকে বড়ের সন্নিকট পর্যন্ত বগুড়া পৌরসভার আওতায় এবং তার পর থেকে গাবতলীর পাকার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৬/৭কিলো মিটার সড়ক রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায়। এখানে প্রায় এক/দেড় কিলো মিটার পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। প্রায় ৫কিলো মিটার সড়কের বেহাল অবস্থাই রয়েছে। অপর দিকে গাবতলীর পাকার মাথা থেকে গোলাবাড়ী তরনীরহাট পর্যন্ত প্রায় ১৪কিলো মিটার সড়ক রয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) এর আওতায়। এই সড়কে কোন কাজ না হওয়ায় সম্পূর্ণ সড়কটির বেহাল অবস্থা রয়েছে। এক কথায় প্রায় ২০/২২কিলো মিটার ওই সড়কের এলজিইডি থেকে শুধু এক/দেড় কিলো মিটার কাজ করা হয়েছে। প্রায় ২০কিলো মিটার বগুড়া-গোলাবাড়ী তরনীরহাট সড়কটির পাকা কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্যস্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দেখে মনে হবে এটি কোন সড়ক নয়, মাছ চাষ করা ডোবা অথবা পতিত পড়া সড়ক। এ কারনে প্রতিদিন ছোট খাট দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এ বিষয়ে গোলাবাড়ী বন্দরের সার ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম মোল্লা, আব্দুল মজিদ মন্ডল, লুৎফর রহমান সরকার স্বপন, ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান আরিফ, সুলতান মাহমুদ, শাহনেওয়াজ জাকিসহ আরো অনেকে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়ে আগামীতে সড়কটি পুনঃ নির্মাণের দাবী করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com