মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৬ অপরাহ্ন

নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর আবুলের মরদেহ উদ্ধার

যমুনা নিউজ বিডিঃ রাজধানীর বাসাবো ঝিলপাড় কালভার্টের নিচে নর্দমায় নিখোঁজ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে আবুল হোসেনের নামের এক ব্যক্তির মরদেহ। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বুধবার সকাল ৯টা ২ মিনিটে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে গিয়ে নর্দমায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।

আবুলকে উদ্ধারে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু সন্ধান মেলেনি তার। বুধবার দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই তার মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, ‘সকাল ৯টা ২ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে তার (আবুল) মৃতদেহ ভেসে ওঠে। ময়লা-আবর্জনার ভেতরে কিছু একটা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তখন আমরা তার মরদেহ উদ্ধার করি। আবুল হোসেন খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান জীবনযাপন করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর। নিখোঁজ ব্যক্তির বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেন মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আবুলের ময়লা কুড়ানোর বস্তা দেখে সেটা চিনতে পারেন। তিনি জানান, আবুল সকালে ওই বস্তা নিয়ে ময়লা কুড়াতে বেরিয়েছিলেন। তার স্ত্রী সন্তান থাকলেও তারা আবুলের সঙ্গে থাকতেন না। মো. রফিক নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছিলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের হয়ে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেন। সকালে তিনি (রফিক) ময়লার ভ্যান নিয়ে কালভার্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দেখেন আবুল নর্দমা থেকে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যান। রফিক আরও জানান, তিনি ছুটে গিয়েছিলেন আবুলকে উদ্ধার করতে। কাছাকাছি গিয়ে দেখেন তার হাত পানিতে ভাসছে। এরপরই তলিয়ে যান আবুল। ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা নিখোঁজের খবরটি পায় ১০টা ১৩ মিনিটে। এর ভিত্তিতে নিখোঁজ আবুলকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুই ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে ডুবুরি দলও অভিযানে অংশ নেয়। নর্দমায় ডুবুরিরা ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান। ওই দিন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে নর্দমায় নেমেছিলেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক। তিনি বলেছিলেন, ‘নর্দমাটি ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর। তবে নিচে ময়লার স্তূপ জমে এখন গভীরতা ছয় থেকে সাত ফুট। নিচে ময়লার কয়েকটি লেয়ার থাকলেও ময়লার মধ্যে মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা কম। ‘কারণ পানির অনেক স্রোত। আমার ধারণা, ওই ব্যক্তি স্রোতে ভেসে গেছে।’ সবশেষ বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com