সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন

তৃতীয়বারের মতো লাভের মুখ দেখছে মধ্যপাড়া পাথরখনি

যমুনা নিউজ বিডিঃ দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথরখনি টানা তৃতীয়বারের মতো লাভের মুখ দেখছে। ফলে খনির সব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রোফিট বোনাসও পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ জরিপ অধিদফতর (জিএসবি) ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিষ্কার করে। উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কোঅপারেশন করপোরেশনের সাথে পাথরখনি উন্নয়নে ১৯৯৪ সালের মার্চে মূল চুক্তি হয়। কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালের ২৫ মে পাথরখনির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু হয়। প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০-৪০০ মেট্রিক টন। বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও ছিল না খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। একপর্যায়ে খনিটি কয়েকশ’ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধের উপক্রম হয়। দেশের অর্থনীতিতে বোঝা হয়ে দাঁড়ায় উন্নত মানের এই শিলাখনিটি।

খনিটিকে সচল রাখতে মধ্যপাড়া পাথরখনির ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার জন্য জার্মানিয়া স্ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এবং মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) মধ্যে ২০১৩ সালে ২ সেপ্টেম্বর ছয় বছরমেয়াদি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খনিতে পাথর উৎপাদন শুরু হয়। এ সময় খনিটির বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় ছিল।

নানা বাধা অতিক্রম করে চুক্তির তিন বছর পর জিটিসি তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে উৎপাদন ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে। প্রতিদিন তিন শিফটে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ছয় হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন হয়। ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দীর্ঘ লোকসানের কলঙ্ক ঘুচিয়ে প্রথম লাভের মুখ দেখে। ওই অর্থবছরে প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা লাভ হয়। পরের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ২২ কোটি টাকা মুনাফা করে দ্বিতীয়বার লাভজনক প্রতিষ্ঠানের ধারা অব্যাহত রাখে পাথরখনিটি। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও খনিটি লাভজনক হবে। পাথর বিক্রি থেকে ইতোমধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ কয়েক কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হয়েছে।
বর্তমানে শতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশী প্রকৌশলী এবং সাড়ে ৭০০ খনি শ্রমিক বর্তমানে এখানে কাজ করছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আদালতের মাধ্যমে জিটিসিকে আরো এক বছর কয়লা উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com