সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, ২ জন আশঙ্কাজনক

দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধিঃ জমি বিক্রি করা হয়েছে ২০০৩ সালে।  বিক্রেতা মারাও গেছেন প্রায় ৪ বছর আগে।  এরপর থেকে বিক্রেতার আত্মীয়স্বজনদের জমিটি নিজেদের দাবি করে জোরজবর দখলের চেষ্টা শুরু হয়।  অভিযোগ উঠেছে, গত ৩১ মে বিকেলে দখলের জন্য তারা লাঠিসোটা, হাসুয়া-বটি নিয়ে হামলা করেন।  এতে জমির বর্তমান মালিকসহ তার পরিবারের পাঁচজন সদস্য আহত হন।  এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। 

ঘটনা ঘটে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায়।  জমির বর্তমান মালিক ও হামলার শিকার রফিকুল ইসলাম বিশ্বাস এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১ জুন) দুপচাঁচিয়া থানায় মামলা করেছেন।  কিন্তু রফিকুলের দাবি, হামলাকারীরা আবারও মারধরের হুমিকি দিচ্ছেন।  এতে এখন তিনি পরিবারসহ জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

হামলার অপর আহতরা হলেন পাইকপাড়ার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আনোয়ারুল ইসলাম বিশ্বাস ও রিমা বিশ্বাস।  এদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, আনোয়ারুল ইসলাম বিশ্বাসের আঘাত গুরতর। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ থেকে ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।  এজাহারে নাম উল্লেখিতরা হলেন, আবু সাইদ মণ্ডল, খলিল মণ্ডল, জিব্রাইল মণ্ডল, মো. ফারুক, মো. মোস্তাকিন, সাজু মণ্ডল, হাবিব মণ্ডল, মোছা. হাওয়া বেগম ও মোছা. রুবি।  এদের সবার বাড়ি উপজেলার পাইকপাড়ায়। 

অভিযুক্তদের সাথে মামলার বাদী রফিকুল ইসলামের সবতবাড়ি নিয়ে বিরোধ চলছিল।  এজাহারে বলা হয়, ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ পাইকপাড়ার বাসিন্দা নজীর উদ্দিনের কাছে থেকে তিন শতক জমি ক্রয় করেন রফিকুল ইসলাম।   প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর আগে নজীর উদ্দিন মারা যান।  এরপর থেকে অভিযুক্তরা জমিটি নিজেদের দাবি করে রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইদের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেন।  রফিকুল পেশাগত কারনে ঢাকায় থাকেন।  এলাকায় তার ভাইয়েরা পরিবার নিয়ে থাকেন।  রফিকুল ইসলামের এলাকায় না থাকার সুযোগে বছর খানেক আগে অভিযুক্তরা ওই জমি জোর করে দখল নেয়ারও চেষ্টা করেছেন।  পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই সময় জমি রক্ষা করেন রফিকুল ইসলাম।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মে আবু সাইদ ও তার লোকজন এসে জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলেন।  পরে ৩১ তারিখ সেই প্রাচীর মেরামত করা হয়।  কিন্তু ওই দিন বিকেল ৫ টার দিকে এজাহারে উল্লেখিত অভিযুক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে এসে হামলা করেন। এ সময় তারা রফিকুল ইসলামকে মারধর করা শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে অপর ভাইয়েরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারপিট করা হয়।  এ সময় শহিদুল, তার মেয়ে রিমা ও আনোয়ারুল গুরুতর আহত হন।  

ভুক্তভোগীদের চিৎকারের এক পর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করান।  পরে সেখান থেকে দুজনকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। 

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, নজীর উদ্দিন মারা যাওয়ার পর থেকে তার ভাইয়ের ছেলে আবু সাইদ ও অন্যান্যরা জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন।  গত বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে জমির মালিকানা নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে দু পক্ষকে দলিল ও কাগজ নিয়ে দেখা করতে বলে পুলিশ। ওই সময় জমির সব কাগজপত্র নিয়ে দু পক্ষই হাজির হই। কিন্তু ওরা (অভিযুক্তরা) কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।  কাগজপত্র খতিয়ে আমাদের জমির মালিকানা সঠিক বলে জানায় পুলিশ। 

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, এক বছর ঠিক ছিল। এরপর আবার তারা জমি দখলের চেষ্টা শুরু করেন।  গত ৩১ মে আমাদের মেরে জখম করেছেন। আমার দুভাই এখনও গুরুতর আহত।  থানায় মামলা করা হয়েছে।  কিন্তু তারপরও তারা প্রতিনিয়ত মারার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।  এখনতো আমরা নিরাপত্তাহীনতায় বাস করছি। 

জমি বিরোধের বিষয়ে জানতে চেয়ে আবু সাইদের সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।  কিন্তু নাম্বার বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, আহতদের খবর নিয়েছি। তাদের মধ্যে দুজন খুব গুরুতর অবস্থায়।  মামলাটিও আমরা বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছি।  অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com