বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

বগুড়ার মহাস্থান এনসিডিপি গ্রোয়ার্স মার্কেটের নানা অনিয়ম

 এস আই সুমন ঃ উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলো মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দখলে। ফলে কৃষকরা এখানে তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে আসতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর আগে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানে নির্মাণ ও চালু করা হয় গ্রোয়ার্স মার্কেট। এটি ‘উত্তর-পশ্চিম শষ্য বহুমুখীকরণ’ প্রকল্পের (এনসিডিপি) আওতায়। এই মার্কেটের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বড় পাইকারদের কাছে বিক্রি করবেন। এতে নারীর অংশগ্রহণ আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টিরও লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু এ কার্যক্রম বাস্তবে কৃষকদের কাজে আসছে কি?। এমনই দৃশ্য মিললো মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেট। মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যেই আটকে গেছে যেন সব। লাভবান হচ্ছেন তারাই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশে অধিক অংশ গ্রোয়ার্স মার্কেট অচল অবস্থা থাকলেও উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় পাইকারি সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থানে গ্রোয়ার্স মার্কেট চলছে জমজমাট। সেগুলো আবার অন্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দখলে। নারীর সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়নের বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হলেও মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজেদের ভিতরে নারীদের নাম দিয়ে মার্কেট গুলো দখলে নিয়েছে তারা। নারী তো দূরের কথা অন্য পুরুষদের উচ্চ মূল্যে ভাড়া দিয়ে গ্রোয়ার্স খাদে সীমিত ভাড়া দেখিয়ে ভোগ করছে তারা। ছাড়াও ৩৩টি উচ্চমূল ফসল (ফল, সবজি, মসলা ও দানা শষ্য) বহুমুখীকরণ ও নিবিড় করণের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন, দারিদ্র হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সামনে একটি তালিকা বসিয়ে কৃষক সমিতির নামে ডাকের মাধ্যমে প্রকল্পটি নেয় তারা। প্যাকিং হাউস, গ্রেডিং, শর্টিং, ওয়াশিং, ড্রাইং ইউনিট, লোডিং, আনলোডিং এরিয়া, স্টোরেজ গোডাউন, নারী কর্নার, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় তথা ট্রেনিং সেন্টার, স্যানিটারি ল্যাট্রিনসহ ড্রেন, রাস্তা ও ডাস্টবিন নির্মাণ করা হয় এসব মার্কেটগুলোতে। মার্কেট এলাকার এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কৃষকদের একটি দল এখানে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করবেন। কৃষকদের মধ্যে কেউ এসব পণ্য ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির জন্য নিয়ে যাবেন। এ জন্য কৃষকদের কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত কৃষকরা। তদারকির অভাবে কিছু বাজার প্রভাবশালীদের দখলে গেছে। আগে এটি দেখা শোনা করে আসছিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়াই এসব বাজারের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে কৃষি বিপণন বিভাগও জানে, খুচরা বাজারের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান হতে পারেনি। কৃষকদের অভিযোগ, খুচরা বাজার পরিচালনা কমিটির গাফিলতি ও জেলা বাজার কর্মকর্তার তদারকি না থাকা এর জন্য দায়ী। বগুড়ার মহাস্থানের খুচরা বাজার এসব মধ্যসত্ত্ব ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। প্রভাব খাটিয়ে তারাই বাজারের মালপত্র টাকার বিনিময়ে ভবনের ভিতরে রাখছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রোয়ার্স মার্কেটে (এনসিডিপি) ভবনে দূরের কৃষকের কৃষিপণ্য রাখার জন্য টাকা নেওয়া হয় উচ্চ মূল্যে৷ ভবনের ভিতরে গ্রোয়ার্স মার্কেট ইজারাদারের একাংশ ও পরিচালক আইনুর ইসলাম এখানে বিভিন্ন সবজি কিনছেন। আইনুর ইসলাম ও সোহাগ নামের এক ব্যক্তি এখানে ব্যবসা করছেন। আইনুরের বাড়ি মহাস্থান হলেও সোহাগের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তারা ২জনে মিলে কয়েক বছর ধরে এ বাজারে ব্যবসা করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। মহাস্থান (এনসিডিপি) গ্রোয়ার্স মার্কেট বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে প্রান্তিক কৃষকরা এখানে মালামাল সংরক্ষণ করবেন এমনটা হওয়ার কথা থাকলেও কৃষকদের সুবিধা তো দূরের কথা ভিতরে স্থানীয় কাপড় ব্যবসয়ীদের দেয়া হয়েছে বরাদ্দ। যা প্রতি মাসে নেওয়া হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ আবার প্রতি সপ্তাহ চুক্তি করে রাখছেন তাদের বিক্রিত বস্ত্র। এনসিডিপির ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, প্যাকিং হাউস, গ্রেডিং, শর্টিং, ওয়াশিং, ড্রাইং ইউনিট নামের একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে এক আলু ব্যবসাীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই আলু ব্যবসায়ী জানান, আগে যেখানে ১২’শ টাকা প্রতিমাসে ভাড়া দিতাম এখন তা বাড়িয়ে নিচ্ছে ৩,হাজার টাকা। বলার কিছু নেই আমি একজন কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী কোন সুবিধা নেই। মোকামতলা এলাকার জাইদুল ইমলাম জানান, এখানে তারা বেশ কয়েকজন ব্যবসা করেন। প্রতি বস্তা সবজি ৮ থেকে ১০ টাকা গুণতে হয়। এসব ব্যবসায়ীরা বলেন, গ্রোয়ার্স মার্কেট অনেকের নামে থাকলেও তারা ব্যবসা করেন না। এদিকে (এনসিডিপি) গ্রোয়ার্স মার্কেটের মেয়াদ উর্ত্তীণ নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। সরকারি নিয়মনীতি মতাবেক সিডিউল মতে এসব গ্রোয়ার্স মার্কেটের ডাকের মাধ্যমে হস্তান্তর যোগ্য হলেও মেয়াদ উর্ত্তীণের কোন তোয়াক্কা নেই।। মেয়াদ উত্তীর্ণ মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেটের পরিচালক আইনুর ইসলাম বলেন, এখনও আমাদের মেয়াদ অনেক রয়েছে। প্রতিমাসে আমরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে এই মার্কেট গুলোর টাকা পরিষদ করি।। নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে নারী মার্কেট কারা পরিচালনা করছেন? জানতে চাইলে তিনি জানান, নারীরা বাজারে এলে নানা লাঞ্ছনা ও বঞ্ছনার শিকার হবেন তাই তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।। গ্রোয়ার্স মার্কেটের সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা শহরে নারী ব্যবসা এখনো বিকশিত হয়নি। মহাস্থান গ্রোয়ার্স মার্কেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমি অন্যত্র বদলী জনিত কারণে বিস্তারিত বলতে পারছি না। নতুন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এলে তার সাথে যোগাযোগ করবেন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উন্মে কুলসুম সম্পা বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি বলেন,বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com