সোমবার, ২১ Jun ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

রাবিতে সেই ১৩৮ জনের অবৈধ নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ

যমুনা নিউজ বিডিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহানের শেষ কর্মদিবসে দেওয়া ১৩৮ জনের নিয়োগকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি। এই নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, প্রচলিত বিধিবিধান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটি এই নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বিদায়ি উপাচার্যের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ও একই সঙ্গে উপাচার্যসহ দোষী অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। রবিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর।

৯ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৩৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে সাবেক উপাচার্য স্পষ্টতই আইন ও প্রশাসনিক রীতিনীতি ভেঙেছেন। নিয়োগের ঘটনায় প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড. এম আব্দুস সোবহানকে। এ নিয়োগ দিতে গিয়ে তিনি নানা অনিয়মেরও আশ্রয় নিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মাত্র ৯ জনের জীবন বৃত্তান্ত পেয়েছে কমিটি।

এ ঘটনায় প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিদায়ি উপাচার্যের জামাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রভাষক এ টি এম শাহেদ পারভেজকে। এছাড়া সংস্থাপন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী, রেজিস্ট্রার শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার তারিকুল আলম ও পরিষদ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মামুন অর রশীদকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। সাবেক উপাচার্যের আরেকটি দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বিচারের আগেই যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এজন্য বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বড় অবৈধ নিয়োগ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুই উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে কেবল শেষদিনে গণনিয়োগ পাওয়া ১৩৮ জন নয়, স্বজনপ্রীতি ও যোগ্যতা কমিয়ে নিয়োগ পাওয়া আরো ৩৪ জন শিক্ষকের নিয়োগও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এম সোবহানের দেওয়া অবৈধ নিয়োগের সুবিধাভোগী বেশ কয়েক জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বলা হয়েছে, ঐ শিক্ষকদের স্ত্রী, সন্তান, জামাতাসহ বিভিন্ন নিকটাত্মীয় অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। এজন্য অবৈধ এ নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদেরও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

অধ্যাপক আবদুস সোবহান ২০১৭ সালের মে মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পান। নীতিমালা শিথিল করে এবং অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ইউজিসির তদন্তেই এসব অভিযোগের সত্যতা মেলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য গত ডিসেম্বরে ১২টি পৃথক নোটিশ দিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। এ নির্দেশনা তিনি মানেননি। শুধু তাই নয়, শেষ দিনেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিয়োগ দেন ১৩৮ জনকে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com