মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৭:২১ অপরাহ্ন

রোজিনার নিঃশর্ত মুক্তি চাই

যমুনা নিউজ বিডিঃ প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও কারাবন্দী রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁকে হেনস্তাকারী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন সাংবাদিকনেতারা। তাঁরা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ও এর বাইরে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।

আজ বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচিটি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণের ভেতরে একযোগে আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বরিশাল ডিভিশনাল জানার্লিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি ও ফরিদপুর জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন। প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণের বাইরে কর্মসূচি পালন করে বিএফইউজের একাংশ এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র। রোজিনা ইসলামের ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও প্রত্যাখ্যান করেন সাংবাদিকনেতারা। তাঁরা রোজিনাকে কারাবন্দী করার ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের হেনস্তার শিকার হন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং মামলা করা হয়। পরদিন গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর তাঁর রিমান্ড নামঞ্জুর করে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিএফইউজে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আনা অভিযোগকে হাস্যকর, অবান্তর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। কাল রোজিনাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া, সাংবাদিকনেতাদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার বিরুদ্ধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানায় সংগঠনটি। এসব দাবি মেনে না নেওয়া হলে দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সব সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিকদের অন্য সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে সারা দেশের সাংবাদিক, শ্রমিক–কর্মচারীদের নিয়ে বিএফইউজে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে জানানো হয় কর্মসূচিতে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনার মাধ্যমে সব সাংবাদিকেরা যে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন, তা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে রোজিনার মুক্তি চাই। সরকার চাইলে এখুনি মামলা প্রত্যাহার করতে পারে। কর্মসূচিতে আরও যোগ দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান।

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, সরকারি অর্থায়নে কোনোভাবেই সাংবাদিকদের চরিত্র হনন করা যাবে না।

বিএসআরএফের সভাপতি তপন বিশ্বাস বলেন, রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কক্ষে আটক রাখার পর তাঁরা দফায় দফায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাঁদের কোনো কথা না শুনে রোজিনাকে বিকেল চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। থানায় নিয়ে মামলা দেওয়ার পর গতকাল কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ কারণে তাঁরা ওই সংবাদ সম্মেলন বর্জন করেছেন। তিনি বলেন, রোজিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয় চুক্তির যে ফাইল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটির চুক্তি হয়েছে গত ২২ এপ্রিল। সেটা কী এমন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছিল, যা এত দিন পর টেবিলে অবহেলায় পড়েছিল, সেটা সাংবাদিকেরা এখন জানতে চায়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, রোজিনার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বর্জন করা হবে।

প্রেসক্লাবের বাইরে আয়োজিত কর্মসূচিতে রোজিনা ইসলামের সঙ্গে বিএফইউজের একাংশের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীসহ আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করে সংগঠনটি।

রোজিনার মুক্তি চেয়ে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, রোজিনাকে যাঁরা হয়রানি করেছেন, সরকার যেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

রোজিনার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক বলেন, ‘কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, সহসভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ ও সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমীন রিনভী, এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সভাপতি নাদিরা কিরণ, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনিমা সুলতানা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাসিমা আক্তার, বিএসআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিন আল রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকতসহ অনেক সাংবাদিকনেতা।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com