মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জে তাঁত পল্লীতে জেগে উঠছে না খট খট শব্দ বেকার এখন শ্রমিক

যমুনা নিউজ বিডিঃ ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লীতে এবার তাঁতের খট্ খট্ শব্দ জেগে উঠছে না। এ শব্দে তাল মিলিয়ে গান গাইতো তাঁত শ্রমিকেরা। তাঁত শিল্পের উপকরণের দাম বৃদ্ধিসহ করোনা রোধে বিধিনিষেধে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তাঁত কারখানা মালিকরা আর্থিক সংকটে ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার তাঁত সমৃদ্ধ বেলকুচি, চৌহালী, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর উপজেলার তাঁত মালিকরা কাপড় উৎপাদন ও বিক্রি করতে না পারায় অনেক তাঁত কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বহু তাঁত মালিক ঋণের জালে আটকে পরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকের তাঁত কারখানা ও বসত বাড়ী নিলামে ওঠার উপক্রম হয়েছে। ঈদের আগে প্রতিবছর সরগরম হয়ে উঠতো এসব এলাকার তাঁত পল্ল¬ী। করোনার প্রভাব ও তাঁত শিল্পের উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকাংশ তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে এ তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ তাঁত শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়েছে। এ জেলার ছোট বড় মিলে তাঁত কারখানার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ।

এসব কারখানায় উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গী, গামছা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হয়। বিশেষ করে শাহজাদপুর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, উল¬াপাড়া ও পাঁচলিয়া বাজারে সপ্তাহে ২ দিন করে বিশাল কাপড়ের হাট বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন এসব হাটে। এসব হাটে রঙ,সুতা ও কাপড় বিক্রি হয়ে থাকে কোটি টাকারও বেশী। সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত এ কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। এ পরিস্থিতির কারণে এবার তেমন কোন আমেজ নেই। তাঁত কারখানা মালিকেরা জানান, সুতার মিল মালিকরা ইচ্ছামাফিক সুতার মূল্য বৃদ্ধি করছে। আর কারণ হিসেবে তুলার মূল্য বৃদ্ধির কথা বলছে মিল মালিকরা। সেইসাথে রং ও কেমিক্যালের মূল্যও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার দ্রুত তাঁতীদের কল্যাণে পদক্ষেপ না নিলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফসহ প্রণোদনার জন্য তাঁত মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com