সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, ফের সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা

ঢাকা অফিসঃ চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দিয়েছে সরকার। তবে কঠোর বিধিনিষেধেও স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে মার্কেটগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। ফুটপাত কিংবা মার্কেটের ভিতরে ক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।

অনেক সময় ক্রেতা-বিক্রেতা দোকানে মাস্ক ছাড়া অবস্থান করছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংক্রমণ কমলেও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অবহেলা করলে ফের সংক্রমণ বাড়তে পারে। তাই প্রতিহত নয়, করোনা প্রতিরোধ করা জরুরি। সে জন্য শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। বিধিনিষেধ মানতে হবে।

আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট গেলে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতে ও মার্কেটের ভিতরের দোকানে অনেকে ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক ছাড়াই অবস্থান করছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে কেনাকাটা করছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোতে অধিকাংশ ক্রেতাদের মুখে মাস্ক নেই।

আব্দুর রহিম পরিবার একাধিক সদস্য নিয়ে রাজধানীর মগবাজার থেকে নিউমার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। দোকানদারদের অনেকের মুখে মাস্ক নেই, স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মানবো। এখানে মোড়ে মোড়ে ভিড়। যেখানে যাই সেখানেই মানুষের জটলা। এখন কে মাস্ক পড়ছে আর কে পড়ছে না আপনি কি করে খেয়াল রাখবেন।

নিউমার্কেটর সুলতানা ফ্যাশন হাউসে ঢুকতেই দেখা যায় দোকানের পাঁচ জন কর্মচারীর তিনজনের মুখেই মাস্ক নেই। বিধিনিষেধ কেনো মানছেন না জানতে চাইলে দোকানের মালিক খুরশেদ আলম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা চলি। বেচাকেনা নেই, ক্রেতা নেই তাই আমরা মাস্ক খুলে রেখেছি। অবশ্যই আরেকজন কর্মচারী ইশারায় বলার পর তাদের মাস্ক পরতে দেখা গেছে।

চন্দ্রিমা মার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে গেলে একই চিত্র দেখা যায়। নিয়ম মেনে শপিংমলে ঢুকতে দেখা গেলেও মার্কেটের ভিতরে এর উলটো চিত্র। জটলা বেধে চলাচল করতেও দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সোমবার (৩ মে) রাজধানী মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতা মাস্ক না পরলে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলমান লকডাউনে ব্যবসায়ীদের লোকসানের কথা বিবেচনা করে দোকানপাট খুলে দিয়েছে সরকার। তার আগে স্বাস্থ্যবিধি মানবেন বলে লিখিত দিয়েছেন দোকান মালিকেরা। এখন ডিএনসিসি এলাকার মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মাইকিং করা হচ্ছে।

করোনার এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানা নিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে গণপরিবহন এবং মার্কেটগুলো থেকে। যেহেতু সরকার ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে মার্কেটে খুলে দিয়েছে সেহেতু তাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলা। সেক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো- অবশ্যই ক্রেতা-বিক্রেতাকে মাস্ক পড়তে হবে। করোনা প্রতিহত নয়, প্রতিরোধ করতে হবে। যদি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে যায় তাহলে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। স্বাস্থ্যবিধিকে অবহেলা করলে আবার সংক্রমণ বাড়বে। আবারও আমাদের শঙ্কায় পড়তে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media


দেশ রাজনীতিকরাজনীতিবিদরা এখন দেশ পরিচালনা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছেন না। একজন রাজনীতিবিদকে (শেখ হাসিনা) সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী সব কাজগুলো করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। শনিবার জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন এই আওয়ামী লীগই ৭২-৭৫ সালে চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল। সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সম হয়েছিলেন। আমাদের বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জোর করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়। এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য। ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার। কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে তারাই আজকে এই আইনটি করবে। ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তামান সভাপতি ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি বাকের হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।রা চালাচ্ছেন না: ফখরুল

© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com