শুক্রবার, ৩০ Jul ২০২১, ০৭:০১ অপরাহ্ন

News Headline :
সিরাজগঞ্জ চৌহালী উপজেলায় যমুনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ-০১ নিয়মনীতিহীন আইপি টিভির বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী চরকার আদিজন্ম ভারত, ইউরোপের শিল্পে যেভাবে জনপ্রিয় হলো রাজবাড়ীতে অস্ত্র ও গুলি সহ দুই সন্ত্রাসী গ্রেফতার আফগানিস্তানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০, নিখোঁজ ১৫০ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বিভাগের ডিডিকে পবিত্রতা অনুশীলনের জন্য এমওই প্রদান আর্মেনিয়া-আজারবাইজান সীমান্তে ফের সংঘাত, নিহত ৩ আর্মেনীয় সেনা ৫ আগস্টের পরও বিধিনিষেধ বহালের সুপারিশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের গোবিন্দগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ যুবক নিহত টেকনাফে ১ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

অবহেলায় অন্ধকারে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম

২০০৬ সালের পরে বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে উত্তরবঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ছিল তা ভুলেই গেছে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

তবে বর্তমানে এই মাঠে ঘরোয়া ক্রিকেট আসর জাতীয় লিগ, স্থানীয় প্রিমিয়ার ডিভিশন ও প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৫ বছর ধরে উত্তরাঞ্চল মানুষ বঞ্চিত রয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা দেখা থেকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার কয়েকজন বলছেন, স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ফিরে নিয়ে আসতে চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আবারো খুব দ্রুত এ স্টেডিয়াম আলোর মুখ দেখবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি আইসিসি বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছরে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতিও পায়। একই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই ভেন্যুতে পাঁচটি ওয়ানডে ও একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ২০০৬ সালের পর আর জ্বলে ওঠেনি স্টেডিয়ামটির ফ্লাড লাইটগুলো। আলোকিত হয়নি উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখার একমাত্র মঞ্চটি। তবে মাঠে সর্বশেষ ইংল্যান্ড ‘এ’ দল এসে খেলে গেছে ২০০৭ সালের মার্চ মাসে।

২০০৩-০৪ অর্থ বছরে মাত্র ২১ কোটি টাকায় বগুড়া জেলা স্টেডিয়ামকে একটি আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে (ফ্লাড লাইটসহ) উন্নীত করা হয়েছিল। মাঠে আগে থেকেই ভালো মানের পাঁচটি উইকেট (পিচ) রয়েছে। আরো দুটি নতুন উইকেট বানাতে বেশি খরচও করতে হবে না। আউটফিল্ড, গ্যালারি, মিডিয়া সেন্টার ও ড্রেসিং রুমের অবস্থা এখনো বেশ ভালো। তাই খুব অল্প টাকায় স্টেডিয়ামটিকে সংস্কার করে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালু করা সম্ভব।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে স্টেডিয়ামটির দায়-দায়িত্ব বিসিবির। তবে গত ১৫ বছরে এখানে ছোঁয়া লাগেনি সংস্কার কাজের।

অভিযোগ উঠেছে, ২০০৬ সালের পর থেকে ফ্লাডলাইটগুলো খুব কমই জ্বালানো হয়েছে, তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য প্রতি মাসে ৯০ হাজারেরও বেশি টাকা দিতে হয় বিসিবিকে। এছাড়াও স্টেডিয়ামের কর্মীদের বেতন ও নামমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়।

ক্রীড়া অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংস্কারে খুব বেশি অর্থ খরচ হবে না। ২০০৬ সালে স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ছিল সাড়ে ১৮ হাজার। এই মাঠের চারপাশে যে ফাঁকা জায়গা আছে, তাতে গ্যালারি সম্প্রসারণ করলে ৪০ হাজার দর্শক একসঙ্গে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।

জেলা যুব লীগের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন বলেন, স্টেডিয়ামের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হবে। যত দ্রুত সম্ভব একটা সমাধান নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। কিন্তু এ বিষয়ে কথা বলা হলেও অনেক সময় জেলা প্রশাসন থেকে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করবো, আশা করছি খুব শিগগিরই আলোর মুখ দেখবে এ স্টেডিয়াম।

শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক খেলা ফিরবে কী না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, আপাতত করোনাকালীন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই আমাদের।

এদিকে জেলা প্রশাসন গুরুত্ব না দেয়ায় এ স্টেডিয়াম আলোর মুখ দেখছে না বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতাদের দাবি।

জেলার ক্রীড়া অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ১৫ বছর ধরে এ স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা বন্ধ রয়েছে। তারা প্রশ্ন রেখেছেন, করোনভাইরাস কী এতটা বছর ধরেই ছিল? এটা জেলা প্রশাসকের দায় এড়ানো বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই না।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com