সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

দোয়া কবুলের মাস রমজান

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে বান্দাকে নিষ্পাপ ও আল্লাহর নৈকট্যশীল করতে রমজানের আগমন ঘটে। রমজান যেমন ইবাদতের মাস, তেমনি দোয়া কবুলেরও মাস। যেখানেই ইবাদত, যেখানেই সৎ আমল সেখানেই মহান আল্লাহর শাহী দরবারে দোয়া করতে হয়। কারণ ইবাদত বা সৎ আমলের পর দোয়া কবুল হয়। আমরা পবিত্র কুরআনের আলোকে এর সত্যতা দেখতে পাই। মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহর ঘর কাবা যখন পুনর্নিমাণ কাজ শেষ করেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছিলেন। তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল আ. কাবা পুনর্নিমাণ কাজে পিতাকে সহযোহিতা করেন। দোয়াতে তিনিও শরীক হন। দোয়াতে বলা হয়েছিল, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর। আমাদের হজ্জের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু। হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ কর, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী, বিজ্ঞময়। (সূরা বাকারা ১২৮, ১২৯)
এর দ্বারা প্রমানিত হয় কোন ইবাদত বা সৎ আমল করার পর দোয়া করতে হয় এবং তা কবুলও হয়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইবরাহীম আ.-এর এই দোয়ারই ফসল। রমজান মাস পুরোটাই ইবাদতের মাস। এ মাসে শুধু ইবাদত আর ইবাদত। ইবাদতের পরই রয়েছে দোয়ার স্থান। তাই রমজানকে বলা হয় দোয়ার মাস। এ মাসে দোয়া কবুল করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। এক. ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া। দুই. ন্যায় বিাচরক বাদশাহর দোয়া। তিন. মজলুম ব্যক্তির দোয়া- আল্লাহ তায়ালা তার দোয়া মেঘের উপর উঠিয়ে নেন। আসমানের সকল দরজা তার জন্য খুলে দেওয়া হয় এবং আল্লাহ পাক বলেন, আমার ইজ্জতের কসম, আমি অবশ্যই তোমার সাহায্য করব। যদিও তা কিছুটা বিলম্বে ঘটে।
দুররে মানসুর কিতাবে হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাস এলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা বদলে যেত। তাঁর নামাজের পরিমাণ বেড়ে যেত এবং তিনি দোয়ার মধ্যে খুবই কাকুতি-মিনতি করতেন। আল্লাহর ভয়-ভীতি বৃদ্ধি পেত। হাদীসে আছে, আল্লাহ পাক রমজান মাসে আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের হুকুম করেন যে, তোমরা নিজ নিজ ইবাদত-বন্দেগী ছেড়ে রোজাদারের দোয়ার সাথে আমীন বলতে থাক।
হযরত উবাদা বিন সামেত রা. বর্ণনা করেন, রমজান মাসের নিকটবর্তী সময়ে একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, রমজানের মাস এসে গেছে। যা অতি বরকতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন, বিশেষ রহমত নাজিল করেন, গুনাহ মাফ করেন এবং দোয়া কবুল করেন। তোমাদের পরস্পর প্রতিযোগিতা দেখেন এবং ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। অতএব তোমরা আল্লাহকে তোমাদের নেককাজ দেখাও। ঐ ব্যক্তি বড়ই হতভাগা যে এই মাসেও আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত থাকে।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের প্রতি দিবারাত্রে আল্লাহর তায়ালার দরবার হতে জাহান্নামের কয়েদীদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রতি দিবারাত্রে প্রত্যেক মুসলমানের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়।
যেহেতু এই দশকটা মাগফিরাতের দশক, তাই আমাদের উচিত ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি সকল প্রয়োজনের আবেদন নিয়ে আল্লাহর দরবারে প্রচুর পরিমাণে দোয়া করা। আল্লাহ আমাদের দোয়া করার তাওফীক দেন এবং সকল দোয়া কবুল করুন।
লেখক: ড. মাওলানা ইমতিয়াজ আহমদ, পেশ ইমাম ও খতীব, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট জামে মসজিদ, রাজশাহী

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com