বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

বাতাসে দোলে আনোয়ারার ঘর!

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ স্বামীর দেয়া ১ শতক ও জামাইয়ের কেনা ২ শতকসহ মোট তিন শতক জমির উপর দুই পরিবারের বসবাস। ৩ শতক মাটিতে দুইটি ঘরে মেয়ে-জামাই এক ঘরে ও বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম ও স্বামী আমের উদ্দিন থাকেন জরাজীর্ণ অপর ঘরে। হালকা বাতাস হলেই দোলে আনোয়ারার ঘর। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া এই পরিবারটির ঘর মেরামত করারও সামর্থ নেই।

বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগমের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আমের উদ্দিনের স্ত্রী।

বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম জানান,এখন পর্যন্ত কোন সরাকারী ত্রাণ পাইনি। স্বামী রিক্সা চালক আর আমি সারাদিন অন্যের বাসায় কাজ করে যেটুকু পাই তা দিয়ে চলে সংসার। ঘর ভাল করার টাকাও নাই। হালকা বাতাসেও দোলে ঘর এমনি অবস্হা।ঝড় বৃষ্টি হলে খুব ভয় ভয়ে রাত কাটে যেন এই মনে ঘর ভেঙ্গে মাথায় পড়লো। আর লকডাউনে কেউ কাজে ডাকে না। খুব চিন্তায় কাটছে দিন।

তিনি আরও জানান, লকডাউনের মাঝে কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পাইনি আমরা । ভাঙ্গা ঘরে থাকলেও সরকার আমাদের ঘর দেয়নি। আর কত গরিব হলে সরকারী ঘর পাবো এমনটি জানিয়েছেন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম।

বৃদ্ধার মেয়ে নজিমা বেগম জানান,আমার স্বামী রিক্সা চালক। আমি চাল কলে কাজ করি। কোন রকম চলে আমাদের সংসার। মায়ের ঘর ভাল করার মতো সামর্থ আমার স্বামীর নাই। আমার মা আর কতো গরিব হলে সরকারী ঘর পাবে।

এ বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আক্কেল হোসেন জানান, আনোয়ার বেগম আমার প্রতিবেশী। আসলেই অভাবের কারণে তাদের থাকার ঘরটি নরবরে অবস্থা। আনোয়ারা বেগমকে একটি সরকারী ঘর দিলে উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে সিংগীমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু বলেন, আপাততো গুচ্ছগ্রাম ছাড়া ব্যক্তি মালিকানা জমিতে কর্তৃপক্ষ কোন ঘরের বরাদ্দ দেয় নাই।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com