বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

News Headline :
মিলনের সুস্থতা কামনা করে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের বিবৃতি বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবীতে বগুড়ার কাগইলে মশাল মিছিল বুড়িচংয়ে এক ইউনিভার্সিটির ছাত্রের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা  সকল নেতাকর্মীর দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলা উচিত- মজিবর রহমান মজনু বগুড়া আ. হক কলেজের শিক্ষক পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হলেন যারা নন্দীগ্রামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের ৭শ’ সদস্যর মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি রফিক ভূঁইয়ার স্মরণ সভা প্রথম স্থান অর্জন গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাল থেকে পলিথিনমুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রামের তিন কাঁচাবাজার

ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমহীন কপিলমুনি বণিক সমিতি অফিস

খুলনা প্রতিনিধিঃ ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক-বাহক খুলনা জেলার দ্বিতীয় বৃহৎতম বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি। দানবীর স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু প্রায় শত বছর আগে খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি বাজার আধুনিকায়ন করেন। যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা গুলোর মধ্যে লক্ষণীয় ছিল। সেই থেকে নাম করণ করা হয় বিনোদগঞ্জ বাজার। বাজারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তৎকালিন সময় বিনোদ বাবু প্রতিষ্ঠা করেন বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান। তেমনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে নির্মাণ করেন সিদ্ধেশ্বরী ভবন বা সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক। সেখানে বসে বিনা লাভে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বিতরণ করা হতো মূলধন।

সেই সময় উৎকর্ষ সমিতির নামে এ সব ঋণ বিতরণ করতেন মহান ব্যক্তিত্ব রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু। ২০ ইঞ্চি চওড়া চুন সুড়কির নির্মিত পাঁকা দেওয়াল আর লৌহ কাঠের তৈরী দরজা জানালা দ্বিতল ভবন আজও মনে করিয়ে দেয় তার অতীত ঐতিহ্যের ইতিকথা। কিন্তু কালের বিবর্তন ও বৈরীতায় আজ সেই সুবিশাল ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হয়ে বর্তমানে পলেস্তারা, ছাদসহ এর অবকাঠামো নড়বড়ে হয়ে গেছে। অতি মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতলের উপরের কক্ষ গুলো ৪ বছর আগে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

বর্তমানে একতলা ভবনে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে কপিলমুনি বিনোদগঞ্জ বণিক সমিতি কার্যক্রমহীন অফিস বা নাম মাত্র নৈশ প্রহরী কার্যক্রম। ফলে যে কোনো মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা বাজারের ব্যবসায়ীদের। অথচ রাজস্ব আয় সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক উপশহর এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি সরকারের পৃষ্টপোশকতার অভাবে আজও সংস্কার থেকে বঞ্চিত। ইতিপূর্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক পৃথকভাবে ভবন নির্মাণের একাধিক ফলক উন্মোচন করলেও তা কবে নাগাত বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা ফলক উন্মোচনের কথা শুনে ঐতিহ্যবাহী এ ভবন সংস্কারে আশার আলো দেখলেও বর্তমানে এর কোনো প্রক্রিয়ার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন চোখে পড়েনি।

জানাযায়, বাংলাদেশ সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদার গত ৩ জুন ২০১১ ভবন নির্মাণে বণিক সমিতির সম্মুখে এক নাম ফলক উন্মোচন করেন। এরপর গত ৩০ জানুয়ায়ি ২০১২ তারিখে খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনার রশিদ একইভাবে ভবন নির্মাণে ফলক উন্মোচন করেন। অথচ দীর্ঘ এক দশক অতিক্রম হলেও এর বাস্তবায়নে কোনো প্রক্রিয়া অদ্যবধি চোখে পড়েনি। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ ভবনটির সংস্কার ও নির্মাণে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কোনো হতাহত ও ঐতিহ্য রক্ষায় বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক কালেরগর্ভে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতিক শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধেশ্বরী ভবণের নির্মাণ কাজ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাজার ব্যবসায়ীরা।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com