বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সহায়তা করার অভিযোগ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ পুলিশের সহযোগিতায় বগুড়ার শাজাহানপুরের ফুলতলা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার শাজাহানপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ফুলতলা জাহাঙ্গীরাবাদ ফুলতলা এলাকার প্রয়াত যুবলীগ নেতা রঞ্জু প্রামাণিকের স্ত্রী রিক্তা বেগম। এ সময় ত্রাসের রাজত্ব ফুলতলার পৃথক ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রিক্তা বেগমের জা সুরভী বেগম ও লাবণ্য বেগম, ভাতিজা বউ আরজু বেগম, নাতনী দিনা বেগম এবং ভাতিজা বউ সুমি বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিক্তা বেগম। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিদিন রাত হলেই তাদের বাড়িতে হামলা চালায় ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী লিখন ও ফুয়াদ বাহিনী। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি ও তার আত্মীয়-স্বজন ফুলতলা বাজার এলাকায় যেতে পারেন না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কতিপয় পুলিশ সদস্য তাদের সহযোগিতা করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

ফুলতলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ৯ টি খুনের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন হামলায় পঙ্গুত্ব বরণও করেছেন কেউ কেউ। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রায় ২০ বছর আগের। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুর রহমান শাহীন। গ্রুপিংয়ে ফলে শাহীন ও তার অনুসারীসহ এ পর্যন্ত চারজন মারা গেছেন।

অন্য একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা মজনু প্রমাণিক। তিনিও মারা গেছেন আধিপত্যর কোন্দলে। গ্রুপিংয়ের রাজনীতির কারণে মজনুর অনুসারীদের মধ্যে মারা গেছেনও আরও চারজন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ফোরকান হত্যায় ফুলতলা আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফোরকান শাহীন গ্রুপের অনুসারী। বর্তমানে শাহীন গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ছেলে লিখন। আর অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মজনুর ভাতিজা নাদিম প্রমাণিক। ফোরকান হত্যায় তাকে প্রধান আসামী করে শাহাজানপুর থানায় মামলাও করা হয়েছে।

নাদিমের চাচী রিক্তা বেগমের অভিযোগ ফোরকান হত্যার পর পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে রিক্তা বলেন, ফুলতলা এলাকার শাহীন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন যাবত তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে আসছে। হামলায় তার শ্বশুড় শুকুর আলী প্রামাণিক, স্বামী যুবলীগ নেতা রঞ্জু প্রামাণিক, ভাসুর যুবলীগ নেতা মজনু প্রামাণিক, ভাতিজা যুবলীগ নেতা নাহিদ প্রামাণিক ও ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শামীম আহম্মেদকে নির্মমভাবে খুন করেছেন শাহীন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

তিনি অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পবিার রাতে আমার ভাতিজা রমজানকে শাহীনের ছেলে লিখনের অনুসারী সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। কিন্তু জখমকারীরাই থানায় গিয়ে আমার ছেলে সুমনকে আসামি করে মামলা করে। সুমন বর্তমানে জামিনে থাকলেও কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য গত রোববার বাড়ির সামনে থেকে আমার ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও মোটরসাইকেলটি দিচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা তো আছেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণে আমরা আরও শঙ্কা নিয়ে ফুলতলায় বসবাস করছি। এমতাবস্থায় নিজ পরিবার, আত্নীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করছি।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com