বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় নিয়ম ভেঙে জমি কিনলেন এসআই ওহিদুজ্জামান

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  আইন ভেঙে চাকরি করার অবস্থায় নিজ জেলার বাহিরে জমি কিনেছেন পুলিশ কর্মকর্তা। অথচ পুলিশ প্রবিধানে নিজ জেলার বাহিরে অনুমতি ছাড়া জমি কেনার বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এস আই) ওহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এই জমি কেনার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাকে বদলিও করা হয়েছে। আর হত্যা মামলাও তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলতলা এলাকার যুবলীগ কর্মি ফোরকানকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ফোরকানের মা শাহানা বেওয়া বাদি হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন।এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামানকে।

মামলার পর আসামীদের না ধরার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে শাজাহানপুর থানায় ৬ শতক জমি কিনে তিনি আরও আলোচনায় আসেন। জমির দাদা আলেফা বিবি। কিনেছেন এসআই ওহিদুজ্জামান। সাজাপুর মৌজায় তার কেনা জমির পরিমাণ ৬ শতক। দলিল নম্বর ২৪৩৫। জমির নিবন্ধন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার।

অথচ পুলিশ প্রবিধানে চাকরি করা অবস্থায় অন্য জেলায় জমি কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রয়েছে।  প্রবিধানের ১১২ (ঙ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ অফিসারগণ নিজ জেলা ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে ইনসপেক্টর জেনারেলের পূর্বানুমতি ব্যতীত স্বনামে, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, আত্মীয়স্বজন, চাকরবাকর বা আশ্রিত ব্যক্তির নামে বা বেনামে জমি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন না। নিজ জেলা ব্যতীত অন্য কোনো জেলায় মালিকানা থাকলেও ইনসপেক্টর জেনারেলের পূর্বানুমতি ব্যতীত তাহা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।’

ফোরকানের ছোট ভাই মো. ফয়সাল বলেন, মামলার পর থেকে ওহিদুজ্জামান কোনো খোঁজ খবর নেননি। আসামীরা তার সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে জমি কীভাবে কিনেছেন এই বিষয়ে আমাদের জানা নেই।

মামলার বাদী শাহানা বলেন, ‘হত্যাকারীরা অনেক শক্তিশালী। তারা টাকা দিয়ে সবকিছু ম্যানেজ করেছেন। বিচার চেয়ে লাভ নেই। পুলিশও হত্যাকারীদের সাথে সম্পর্কে করে চলছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওহিদুজ্জামান নানা ধরনের অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। ওহিদুজ্জামান নিয়মিত মাদক সেবন করেন। এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের তিনি শেল্টার দিতেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মোবাইলে বলেন, জমি নিজের নামে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরিবারের টাকা দিয়ে কিনেছেন বলে জানান। অন্য কার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

জমি কেনার বিষয়ে পুলিশ প্রবিধান মানা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারিভাবে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আর মাদক সেবনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ফয়সাল মাহমুদ জয়যুগান্তরকে বলেন, ‘ওহিদুজ্জামানের পারফরমেন্স ভালো ছিল না। এই কারণে তাকে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।  তবে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। ’

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com