বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

নির্বিঘ্ন হোক ঈদ যাত্রা

প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এ সপ্তাহের শেষার্ধ থেকেই মানুষ ঘরমুখী হতে শুরু করবে।
ঈদে ঘরে ফিরতে চাই টিকিট। ১২ জুন থেকে দূরপাল্লার বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে গেছে সব রুটের বাসের টিকিট। বিভিন্ন রুটে ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে আজ শুক্রবার পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে লঞ্চের কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রি। বাস-লঞ্চ-ট্রেন—সব পথের টিকিটই এখন সোনার হরিণ। এবার ঈদের আগে দুই দিনের ছুটি পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের পরের দুই দিন নৈমিত্তিক ছুটি থেকে কেটে রাখা সাপেক্ষে যদি ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ করা হয়, তাহলে ঈদুল ফিতরে ঈদের ছুটি হবে আট দিন। স্বাভাবিকভাবেই সবাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতে চাইবেন। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও এ আনন্দে প্রথমেই বাদ সেধেছে টিকিট। প্রতিবছর যেমন ঈদের আগে টিকিটের জন হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় মানুষকে, এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ চিত্র প্রতিবছরের ঈদের সময়ের। শুধু ঘরে ফেরার আগে টিকিট সংগ্রহের বিড়ম্বনা নয়, যাত্রাপথেও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঘরমুখী মানুষকে। ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যেকোনো শহরে যেতে ঈদের আগে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টাও লেগে যায়। অথচ অন্য সময় এ দূরত্ব পাড়ি দিতে লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এর পরও মানুষকে ফিরতে হবে নাড়ির টানে। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে চায় সবাই। সে কারণেই বাড়ি ফেরার তাড়া। হাজারো বিড়ম্বনা সয়ে ঈদের সময় ঘরে ফেরার ব্যাপারে যেন আপত্তি নেই কারো।

ঈদ যাত্রায় বরাবরই থাকে পথের বাধা। বেহাল সড়ক-মহাসড়ক ঘরমুখী মানুষের বিড়ম্বনার কারণ হয়। এবারও তেমনটি ঘটবে না, তা কে বলতে পারে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এখনই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কখনো এ মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ মহাসড়কের চার লেনের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে বংশাই নদীর সেতু দেবে গেছে। ফলে এখন থেকেই বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যাত্রীদের ভুগতে হবে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কোচ ও ইঞ্জিন সংযোজনের চেষ্টা করছে। ঢাকার সদরঘাট থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী লঞ্চের আগাম বুকিং শুরু হয়েছে। এবারও যথারীতি পুরনো লঞ্চ ঘষেমেজে রং লাগানো হচ্ছে—এমন ছবিসহ খবর এসেছে পত্রিকায়।

বাড়ি ফেরার যে মহাযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে, তা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। সবার ঈদ যাত্রা সুন্দর হোক।

Please Share This Post in Your Social Media


© All rights reserved ©  jamunanewsbd.com