Home / সারাদেশ / বরিশাল বিভাগ / সড়কের বেহাল অবস্থা দুর্ভোগে লক্ষ্মীপুর-ভোলা ফেরিঘাটের মানুষ

সড়কের বেহাল অবস্থা দুর্ভোগে লক্ষ্মীপুর-ভোলা ফেরিঘাটের মানুষ

যমুনানিউজ বিডিঃ  লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট এলাকার সড়কের বেহাল অবস্থা। অন্য দিকে সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতেই ডুবে যায় ফেরিঘাটটি। এতে করে মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ২১ জেলার মানুষকে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাককে দীর্ঘ দিন থেকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হলেও তা যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ২১ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তার বেহাল দশার কারণে ওই পথের হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাকের চাপে রাস্তার এই বেহাল দশা হয়েছে। প্রতিদিন ঘাটের ওই রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে বালু ভর্তি করা হয়। তখন এ রুটে চলাচলকারী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সময় মতো ফেরিতে উঠতে না পারায় বাসযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং পণ্যবাহী ট্রাকের কাঁচামাল পচে নষ্ট হয়ে যায়। বালু বহনকারী ট্রাকের চাপে একটু বৃষ্টিতেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে রাস্তাটি।

কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এতে বাড়ছে ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে আসন্ন কোরবানির ঈদে জনসাধারণের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

এ ছাড়া ফেরিঘাটটি সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতেই ডুবে যায়। ঘাট এলাকা আড়াই থেকে তিন ফুট পানিতে ডুবে থাকায় বাস-ট্রাকসহ শত শত যানবাহনকে ফেরি পারাপারে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এতে যানবাহনের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে। যে কারণে ঘাটের প্রবেশপথে বাস-ট্রাক আটকা পড়ে দুর্ভোগ আরো বাড়ে।

জানা গেছে, পারাপারের জন্য লো ওয়াটার, হাই ওয়াটার ও মিড ওয়াটার লেভেলের তিনটি ঘাট থাকার কথা থাকলেও ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের মজু চৌধুরীর হাটে মাত্র একটি মিড ওয়াটার লেভেলের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় এখানকার মিড ওয়াটার লেভেল ঘাটটি এখন লো ওয়াটার ঘাটে পরিণত হয়েছে। যে কারণে সামান্য জোয়ারেই ডুবে যায়। এতে করে দুই পাড়ের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। নদীতে ভাটায় পানি কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ভোলাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক সুলতান ও বাসচালক আবুল বলেন, ফেরির অপেক্ষায় পল্টুনে উঠতে লাইনে দাঁড়াতে হয় গাড়ি নিয়ে। এরই মধ্যে জোয়ার কিংবা বৃষ্টি হলে আর পেছনে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। ওই সময় পানির চাপ বেশি থাকলে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ দিকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রেদোয়ান আরমান শাকিল মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট এলাকায় সড়কটি দেখতে যান। এ সময় লাল পতাকা দিয়ে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর-ভোলা ফেরি সার্ভিস রুটের মজু চৌধুরীর হাট ঘাটের ইজারাদার আলমগীর হোসেন বলেন, সড়কটির পাশে বালুমহাল থাকায় রাস্তার এমন বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। অপর দিকে একাধিক ঘাট না থাকায় সব মওসুমে একই ঘাট দিয়েই পারাপার হতে হয়। তাই এখানে হাই ওয়াটার লেভেলের একটি ঘাট নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সড়কটি জাতীয় একনেকে পাশ হলেও গাছ কাটা জটিলতা নিয়ে এখনো কাজ শুরু হয়নি।

উল্লেখ্য, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল জাতীয় মহাসড়কের (এন-৮০৯) বরিশাল (চরকাউয়া) থেকে ভোলা (ইলিশা ফেরিঘাট) হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় গতবছর মার্চে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে ওই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। এর পর সংবাদ সম্মেলনে তা তুলে ধরেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

Check Also

আদমদীঘিতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না সিএনজি ও অটোচার্জার চালকরা

যমুনা নিউজ বিডিঃ করোনাভাইরাস সংক্রমনে দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্পপরিসরে যাত্রী নিয়ে যানবাহন চলাচলের সরকারি নির্দেশ …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com