Home / জাতীয় / সেই মাদরাসা অধ্যক্ষের কক্ষে একজনের বেশি ছাত্রী প্রবেশ নিষেধ ছিল

সেই মাদরাসা অধ্যক্ষের কক্ষে একজনের বেশি ছাত্রী প্রবেশ নিষেধ ছিল

যমুনা নিউজ বিডি: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার কক্ষে একই সময় একজনের বেশি ছাত্রীর প্রবেশ নিষেধ ছিল। তিনি নিয়মিত তার অফিসে মেয়েদের ডাকতেন। ২০০১ সাল থেকে এই মাদরাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এর আগে সিরাজ উদদৌলা ১৯৯৫ সালে দৌলতপুর মাদসার সুপার ছিলেন। তখন ওই মাদরাসার ছাত্রদের সঙ্গে তার সমকামিতার অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক প্রতারণার মামলা চলমান আছে। প্রতারণার মামলায় তিনি এর আগে জেলও খেটেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ছাত্রী ও অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মাদরাসার গভর্নিং বডি ও থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন,যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি একটি মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে কীভাবে নিয়োগ পান, তা অবিশ্বাস্য। কারা তাকে নিয়োগ দিলেন, এর তদন্ত হওয়া উচিত।

৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে কৌশলে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় মাদরাসার অধ্যক্ষের অনুগত কয়েকজন শিক্ষার্থী। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ওই দিনই গুরুতর আহত অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শরীরের ৭৫ শতাংশের বেশি পোড়া নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত বুধবার হার মানেন নুসরাত। এর মধ্যে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কমিশন বলেছে, এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবহেলা ও অপরাধ করেছেন। জেলা প্রশাসনেরও অবহেলা ছিল। কমিশন এসব কর্মকর্তার অপরাধ ও অবহেলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানা–পুলিশ নুসরাতকে বিভিন্ন অশালীন প্রশ্ন করে। তারা বিষয়টিতে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করে। পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এতে সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী।

মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর এবং উপপরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) এম রবিউল ইসলাম এ তদন্ত করেন।

Check Also

পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ এখনও টেকসই নয়

যমুনা নিউজ বিডি :  কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা এখনও টেকসই নয় বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ …

Powered by themekiller.com