Home / সারাদেশ / রংপুর বিভাগ / সুন্দরগঞ্জে নদীভাঙ্গন রোধে ভরসা জিওব্যাগ

সুন্দরগঞ্জে নদীভাঙ্গন রোধে ভরসা জিওব্যাগ

যমুনা নিউজ বিডিঃ ইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদ-নদীতে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় তীব্র আকার ধারন করছে নদীভাঙ্গন। আর এ ভাঙ্গন রোধে জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

জানা যায়, এবারে দীর্ঘরূপ নেয়া বন্যার পানি কমতে শুরু হতে না হতেই তীব্র আকার ধারণ করছে নদীভাঙ্গন। বিগত দিনের এ চিত্রকে কাজে লাগিয়ে এবারে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নদীভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দাবি উত্থাপন করেন।

এরই প্রেক্ষিতে দ্রুতগতিতে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত হরিপুর খেঁয়াঘাট, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর ও উত্তর শ্রীপুর (পুটিমারী) গ্রামে নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধ, বসতভিটা, আবাদি জমি রক্ষায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলোতে জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গত বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের খড়¯্রােতের ফলে ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলোতে দেখা দিয়েছে ঘর-বাড়ি ও স্থাপনাদি সরিয়ে নেয়ার পালা। কাপাসিয়া, চন্ডিপুর, শ্রীপুর, হরিপুর, বেলকা ও শান্তিরাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় এসব ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলো হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীপুর, লালচামার, হরিপুর খেঁয়াঘাট, কাশিমবাজার, বেলকা নবাবগঞ্জ, পাড়াসাদুয়া, হাজারীর হাট, মাদারীপাড়া, চর মাদারীপাড়া, চর হরিপুর, ভাটিকাপাসিয়া, ভাটি বুড়াইল, বাদামের চর, পোড়ার চর, কাজিয়ার চর, কালাই সোতার চর, পুর্ব শান্তিরাম, চর তারাপুর, লাঠশালার চরসহ বিভিন্ন গ্রামের ভাঙ্গন কবলিত মানুষজন আশ্রয়হীন হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন সরকার, ফুল মিয়া, শহিদুল ইসলাম, নাফিউল ইসলাম সরকার জিমি, আলহাজ্ব সামিউল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্র সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা হলে তাঁরা জানান, নদীর পানি কমতে থাকায় ¯্রতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে আরও তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলোতে আবাদি জমি, গাছপালা, বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিন হওয়ায় ভাঙ্গন কবলিত এসব স্থানের মানুষজন আশ্রয়হীন হয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তারা নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান, বেলকা ও কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিতদের জন্য শুকনো খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। অন্যান্য ইউনিয়ন যেমন- হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে দ্রুত গতিতে ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, উপজেলার ভাটিকাপাসিয়া, দক্ষিণ শ্রীপুর ও লালচামার নামক স্থানে নদীবাঙ্গন ঠেকাতে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭ হাজার জিওব্যাগ ফেলানো হচ্ছে।

নদীভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি ইতঃমধ্যে মহান জাতীয় সংসদে জোড়ালো দাবী তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। নদীভাঙ্গন কবলিতদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি নদীভাঙ্গন সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ ভাঙ্গন কবলিতদের পুনঃবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

Check Also

বগুড়ায় শেখ হাসিনার জন্মদিনে বাংলার মুখের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ায় বাংলার মুখ নামের একটি সাংস্কৃতিক …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com