Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / সার্বিক বিবেচনায় অনুমোদন করা হোক

সার্বিক বিবেচনায় অনুমোদন করা হোক

অর্থনৈতিক বা সামাজিক সূচকে মনোনিবেশ করার সময় জনপ্রতিনিধিদের নেই। বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধিই নিজস্ব ইস্যুতে এবং তদবিরে ব্যস্ত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের হার (৪৫ হাজার কোটি টাকা) পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম (মাত্র ৮ শতাংশ)। উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ সহায়তাও কমে গেছে। তাতে কী? নির্বাচন সামনে, জনগণকে খুশি করতে হবে, তার জন্য দরকার প্রকল্প, দরকার আর্থিক বরাদ্দ। তাই মন্ত্রণালয়ে, সচিবালয়ে তদবির বেড়ে গেছে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের। এলাকার রাস্তা নির্মাণের জন্য এক মন্ত্রী ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) পাঠাচ্ছেন আরেক মন্ত্রীর কাছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানাচ্ছেন মন্ত্রীর কাছে। মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানরাও অর্থ বরাদ্দের জন্য ছুটছেন। তদবিরের দৌড়ে অন্যান্য পেশার লোকজনও রয়েছে। সরকার সবাইকে খুশি রাখতে সচেষ্ট, কাউকে বিমুখ করতে চায় না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিদের তদবিরে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ছয়টি একনেক বৈঠক হয়েছে। এসব সভায় ১০৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। শুধু মঙ্গলবারের সভায় ২১টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে; এটি রেকর্ড। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এবার এডিপির আকার এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দেড় মাসে অনুমোদিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পুরো এডিপির ৬১ শতাংশ অর্থ খরচ হবে। নির্বাচনের আগে এমন প্রকল্প অনুমোদন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দিন ধরেই এ রীতি চলছে। প্রকল্প অনুমোদন করা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। প্রকল্প ঘোষণার রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায় ক্ষমতাসীনরা। তবে একটু বিচার-বিবেচনা করে প্রকল্প অনুমোদন করলে সবার মঙ্গল। কম উন্নয়ন সহায়তা, রাজস্ব আদায়ে ও এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রভৃতি বিবেচনায় না নিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করলে সেগুলো বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতায় পড়বে। সরকার তথা মন্ত্রীদের ব্যাখ্যা অবশ্য ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, জনকল্যাণের তাগিদে প্রকল্প অনুমোদন করা হচ্ছে। নির্বাচনকালে একনেক সভা হয় না। তাই জমে থাকা প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন করানোর জন্য মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের তদবির বাড়ে। তাঁদের তাগাদায় এখন বেশি হারে প্রকল্প অনুমোদন করা হচ্ছে। না হলে প্রকল্প জট বাঁধবে।

বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রকল্প প্রণয়নের জন্য মানুষের চাপ থাকে। জনপ্রতিনিধিরাও তৎপর হন প্রকল্প অনুমোদন করানোর জন্য। এটা দোষের নয়। তবে মূল্যায়ন ও অনুমোদনের সময় প্রকল্পের যথার্থতা ভালো করে যাচাই করা দরকার। সরকার বলে, নির্বাচনের বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে। তাই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হয়। প্রকল্প অনুমোদন করে সেটা করা হয়। এ বক্তব্য এককথায় খারিজ করা যায় না। তবে বিনিয়োগের উেসর দিকে এবং এডিপি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা দরকার। রাজনৈতিক কারণে তড়িঘড়ি অনুমোদন-মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও অর্থের অপচয় কাম্য নয়। প্রকল্প যথাযথভাবে জনগণের কাজে লাগুক—সেটাই কাম্য হওয়া উচিত।

Check Also

সহিংসতা রোধে ব্যবস্থা নিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রায় সব দলের অংশগ্রহণেই হতে যাচ্ছে। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ …

Powered by themekiller.com