Home / স্বাস্থ্যসেবা / শুধু স্বাদে নয়, গুণেও ষোল আনা ইলিশ

শুধু স্বাদে নয়, গুণেও ষোল আনা ইলিশ

যমুনা নিউজ বিডিঃ মাছে- ভাতে বাঙালির দিনে একবেলা পাতে মাছ থাকতেই হবে। আর ইলিশ হলে তো কথাই নেই। মাছের রাজা ইলিশের গন্ধেই অর্ধভোজন। তেলে ঝোলে যেভাবেই রান্না করুন না কেন স্বাদে অতুলনীয়।
তবে শুধু স্বাদে- গন্ধেই নয়। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। সর্ষে ইলিশ থেকে শুরু করে ভাপা ইলিশ কিংবা পাতুরি, দই ইলিশ, ইলিশের ভাজা এমনকি ইলিশের ডিম। কোনো পদই বাদ পড়ে না খাবারের পাতে। সারাবছর অপেক্ষা করার পর, এই সময়ে একেবারে টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে সবাই। চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। জেনে নিন কোন কোন রোগের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে ইলিশ।
হার্ট ভালো রাখবে ইলিশ মাছে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ একেবারেই কম। অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে সামুদ্রিক মাছে থাকা ইপিএ ও ডিএইচএ ওমেগা-থ্রি-অয়েল শরীরে ইকসিনয়েড হরমোন তৈরি রুখতে পারে। এই হরমোনের প্রভাবে রক্ত জমাট বেঁধে শিরা ফুলে যায়। ইলিশ মাছ খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। থ্রম্বসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
বাতের হাত থেকে রেহাই মিলবে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের সঙ্গে অস্টিওআর্থারাইটিসের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। প্রতিদিনের ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ থাকলে বাতের ব্যথা, গাঁট ফুলে গিয়ে যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ইলিশ আপনাকে শতভাগ উপকার করবে।
চোখের যত্নে তেলযুক্ত মাছ খেলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, চোখ উজ্জ্বল হয়। ইলিশ মাছের মধ্যে থাকা ভিটামিন এ রাতকানার মোকাবিলা করতেও সাহায্য করে। বয়সকালে দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসার মোকাবিলা করতে পারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ইলিশ মাছে রয়েছে প্রচুর আয়ডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম। যা থায়রয়েড গ্ল্যান্ড সুস্থ রাখে। এছাড়া উত্‌সেচক ক্ষরণে সাহায্য করে যা ক্যান্সারের মোকাবিলা করতে পারে। এছাড়াও ভিটামিন এ ও ডি-র উত্কৃষ্ট উৎস ইলিশ মাছ।
ফুসফুস ভালো রাখে বহু গবেষণায় দেখা গিয়েছে সামুদ্রিক মাছ ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকরী। শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি রোধ করতে পারে ইলিশ মাছ। যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের ফুসফুস অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
অবসাদ দূর করবে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে। সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার, পোস্ট ন্যাটাল ডিপ্রেশন কাটাতে পারে ইলিশ মাছ।

ত্বকের যত্নে ইলিশ ত্বকের যত্নেও ইলিশের জুড়ি মেলা ভার। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে ওমেগা ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত মাছ খেলে একজিমা, সোরেসিসের হাত থেকে রক্ষা পায় ত্বক। ইলিশ মাছে থাকা প্রোটিন কোলাজেনের অন্যতম উপাদান। এই কোলাজেন ত্বক টাইট ও নমনীয় রাকতে সাহায্য করে।
পেটের যত্নে ডায়েটে তেলযুক্ত মাছ থাকলে পেটের সমস্যা অনেক কম হয়। আলসার, কোলাইটিসের হাত থেকে রক্ষা করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যসিড।
ব্রেন ভালো রাখে মস্তিষ্কের ৬০ শতাংশই তৈরি ফ্যাট দিয়ে। যার অধিকাংশই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের মধ্যে বয়সকালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক কম দেখা যায়। শিশুদের মস্তিষ্কের গঠনেও সাহায্য করে ডিএইচএ। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার রোধ করতে পারে ইলিশ মাছ। স্মৃতিশক্তি, পড়াশোনায় মনযোগ বাড়ায়।

 

Check Also

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

যমুনা নিউজ বিডিঃ অশ্বগন্ধা একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের পাতা সেদ্ধ করলে ঘোড়ার মূত্রের মতো …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com