Home / শিক্ষাঙ্গন / শিক্ষকের সামনেই খুন হলো এসএসসি পরীক্ষার্থী

শিক্ষকের সামনেই খুন হলো এসএসসি পরীক্ষার্থী

যমুনা নিউজ বিডি: সামনে এসএসসি পরীক্ষা, তাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ততার কমতি ছিল না ছেলেটির। মা-বাবার প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। সেই ছেলেটিকেই কিনা খুন হতে হলো সহপাঠী ও বখাটেদের হাতে। বিরোধ আর কিছুই না, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জের। এর জের ধরেই প্রাইভেট শিক্ষকের সামনেই হত্যা করা হয় মেহেদি হাসান জয়কে (১৬)।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের আউলিয়াপাড়া গ্রামে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকার লোকজন হতবাক ও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে যে তিন-চারজন জড়িত, তারা সবাই জয়ের বয়সী। এদের একজন একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। এই ‘ভয়ংকর’ কিশোরদলটির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ নেই। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যে তারা করে না। কিন্তু তাই বলে এরাই যে খুনখারাবির মতো ঘটনা ঘটাবে তা কেউ ভাবতেও পারেনি।

নিহত মেহেদি হাসান জয় বিন্নাটি ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ী কাঞ্চন মিয়ার ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে মেজো। খুব আদরের ছেলে ছিল জয়। বাবা ব্যস্ত মানুষ, তাই মা লাকি আক্তারের কাছেই ছিল সব দায়িত্ব। ছেলের এমন পরিণতিতে গোটা পরিবার বিশেষ করে মা একেবারে ভেঙে পড়েছেন।

মর্গের সামনে বিলাপ করছিলেন ফুফু রুনা আক্তার। আর চিৎকার করে ‘আমার জয় কই রে, আমার জয় কই, জয় জয়’ বলে চিৎকার করছিলেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সেকান্দর আলী সম্পর্কে নানা হন জয়ের। তিনি বলছিলেন, সকালে তাঁর সঙ্গে মজা করেই প্রাইভেট পড়তে বের হয়েছিল জয়। প্রতিদিন নাতির সঙ্গে কত রকম আমোদ-প্রমোদই না করতেন তিনি। লাশকাটা ঘরের সামনে শুয়ে থাকা জয়ের নিথর মুখে নিজের শোকার্ত মুখ লাগিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এমুন নিষ্ঠুর অয় ক্যামনে মানুষ!’ চাচা আবদুল কাদির জানান, ছেলেটিকে নিয়ে মা-বাবার অনেক আশা ছিল। কিন্তু তুচ্ছ কারণে এভাবে যারা হত্যা করতে পারে, তারা যে বয়সী হোক না কেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয় আউলিয়াপাড়া আব্দুল গনি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। জয় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইংরেজি শিক্ষক মো. এখলাছ উদ্দিনের কাছে গণিত ও ইংরেজি প্রাইভেট পড়ত জয়। সকাল ৮টার দিকে ওই শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায় সে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষক এখলাছ উদ্দিন বলেন, ‘এই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আউলিয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে সাব্বিরের নেতৃত্বে বখাটে তারেক (১৫), রিয়েলসহ আরো কয়েকজন বিদ্যালয়ে যায়। আমি তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি। তাদের একজন জয়কে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি বাইরে গিয়ে দেখি, জয়ের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হচ্ছে। আমি তাকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে একজন। আঘাতটি আমার নাকের নিচে লাগে। হঠাৎ দেখি, জয় মাটিতে পড়ে গেছে। আমি চিৎকার করতে থাকি। দেখতে দেখতে ওরা পালিয়ে যায়। বুকের বাঁ পাশে ছুরির আঘাত পাওয়া জয়কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। আমারও ঠোঁটের ওপর কয়েকটি সেলাই করা হয়েছে।’ তিনি এ সময় আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেও আমার ছাত্রকে বাঁচাতে পারিনি। এই কষ্ট ও দুঃখবোধ আমাকে হয়তো চিরদিন বয়ে বেড়াতে হবে।’

স্থানীয় লোকজন বলে, সোমবার দুপুরে জয়ের সঙ্গে প্রতিপক্ষ কিশোরদের ঝগড়া হয়। তবে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। ওই ঝগড়ার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে লাশ দেখতে স্বজন, এলাকার লোকজন মর্গে ভিড় করলে সেখানে শোকার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।  অনেকে জয়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় অনেকে এ ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তারেক নামে এক বখাটেকে আটক করেছে। অন্যদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

সূত্র ঃ কালের কণ্ঠ

Check Also

বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

যমুনা নিউজ বিডি: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শাহপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধে সুজন হোসেন (২৬) নামের এক …

Powered by themekiller.com