Home / জাতীয় / শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

যমুনা নিউজ বিডি: নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভিকারুননিসা স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষকদের খারাপ আচরণের অভিজ্ঞতা থেকে বহুদিন ধরে এ ক্ষোভ তাদের মধ্যে জমে ছিল।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকদের কখনও বাচ্চাদের সমস্যা নিয়ে গার্ডিয়ানদের সঙ্গে কথা বলতে চান না, বাচ্চার কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে সমাধান করার চেষ্টা করেন না। বরং তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

খায়রুল আলমের মেয়ে স্কুলটিতে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। শিক্ষকদের খারাপ আচরণের বিবরণ দিতে গিয়ে যুগান্তরকে তিনি বলেন, তারা আমাদের মূল্যায়ন করেন না। বাচ্চারা এখান থেকে কী শিখবে!

‘আমরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাই শিক্ষার জন্য। কিন্তু স্কুলের প্রত্যেকটা শিক্ষকের কাছে ব্যক্তিগত কোচিংয়ে পড়াতে হয়।

আরেক অভিভাবক আফরোজা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষকরা কেবল শাসন না, এখানে শোষণও করেন। একদিকে তারা কোচিংটা বাধ্যতামূলক করে ফেলেছে, অন্যদিকে সবার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের শাসন করবে করুক। কিন্তু বাচ্চার সামনে বাবা-মাকে অপমান করে এমন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমরা চাই না। মামলা হয়েছে আমরা অতিসত্বর দোষীদের গ্রেফতার দেখতে চাই।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী রুবানা বলেন, আমরা পরীক্ষা বয়কট করে এখানে এসেছি, আমি ১০ বছর ধরে এখানে পড়ছি।

‘সামান্য বিষয় নিয়ে বাবাকে ডেকে অপমান করা হয়, যার জন্য আমরা মানসিক চাপে থাকি। এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু আমরা চাই না, এমন যেন আর না হয়, সে জন্য শিক্ষক ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

অরিত্রির সহপাঠীর মা কনিকা শেখ বলেন, এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বাচ্চারা কী শিখবে! শিক্ষকরা বাচ্চাদের অনেক মানসিক চাপে রাখেন, এখানে শিক্ষার কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ক্লাসে প্রমোশন না পেয়ে ২০১২ সালের ১২ মে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী চৈতি রায় আত্মহত্যা করেছেন, যার বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি।

বুধবার নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘শাসন করুন অপমান নয়,’ ‘কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আর কত শিক্ষার্থী প্রাণ দেবে,’ ‘শিক্ষার্থীদের অপরাধের শাস্তি যদি টিসি হয়, তবে শিক্ষকদের অপরাধের শাস্তি কী হবে?’ বলে স্লোগান দেয়।

ছোটখাটো নানা বিষয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের রূঢ় আচরণের মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

অরিত্রির আরেক সহপাঠীর বাবা আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের এসব বিষয় সামালের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়া উচিত।

ঢাকার একটি স্কুলের এ শিক্ষক বলেন, ভিকারুননিসার কিছু শিক্ষকের ব্যবহার শিক্ষকসুলভ নয়। আমরা অভিভাবকরা তো আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবন দিয়েই ভালোবাসি। তারাও আমাদের ভালোবাসে। কেউ কারও অপমান সইতে পারি না।

অরিত্রির বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এ জন্য অরিত্রির মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ।

তাদের ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে অরিত্রি আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে সে তার মাকে জানায়, ‘মা এ লজ্জা নিয়ে বাঁচতে চাই না।’ তার ছোট বোনও একই স্কুলে পড়ে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাততলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রিকে পাওয়া যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রিকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।

অরিত্রির বাবা বলেন, তার মেয়ের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার স্কুলে পরীক্ষার সময় সে মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছিল।

মোবাইল ফোনে নকল আছে-এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক তাদের স্কুলে আসতে বলেন। সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রির সঙ্গে তারা স্কুলে যান।

পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের রুমে যেতে বলেন।

সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাতে সদয় হননি। পরে তার মেয়ে প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন।

Check Also

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

যমুনা নিউজ বিডি: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন …

Powered by themekiller.com