Home / জাতীয় / রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার এখন না হলে আর কবে?

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার এখন না হলে আর কবে?

যমুনা নিউজ বিডি: আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার এবং সৃষ্ট মানবিক সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা (এমপি)। গত বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কমন্সসভায় রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়ে আলোচনাপর্বে সোচ্চার হন তাঁরা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ওই আলোচনার সূচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকারকে অবশ্যই আরো অনেক জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ওপর যে গুরুতর অপরাধ হয়েছে তার বিচারের ভার জাতিসংঘের মাধ্যমে আইসিসিকে দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করছেন এমপিরা।

ব্রিটিশ মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড আইসিসিতে বিচার নিয়ে জটিলতা খুবই যথার্থভাবে পার্লামেন্টে তুলে ধরেছেন—এ কথা উল্লেখ করে রুশনারা আলী বলেন, ‘এখন না হলে আর কবে?’ তিনি সরকারকে কয়েক মাস পর পর তাদের চেষ্টার অগ্রগতি পার্লামেন্টকে জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণহত্যাকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। এ কারণে আমাদের অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে।’

এদিকে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের এশিয়া-প্যাসিফিকবিষয়ক মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তাঁর বক্তব্যে এত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশাল মহত্ত্ব দেখিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, অনেক রোহিঙ্গা তাঁকে বলেছে, নিপীড়ন না হওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তারা ফিরে যেতে চায়। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনো যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্রিটিশ মন্ত্রী পার্লামেন্টকে জানান, ব্রিটিশ সরকার আইসিসিতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব আনার চেষ্টা করবে। তবে এ ক্ষেত্রে ‘ভেটো’ ক্ষমতাধর চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য বিরোধিতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক কৌশলগত জটিলতা আছে এবং সেগুলো এ উদ্যোগকে ভেস্তে দিতে পারে।

লেবারদলীয় পররাষ্ট্র দপ্তরবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হেলেন গুডম্যান বলেন, এই আলোচনার পর মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের চেষ্টায় উদ্বেগ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের সঠিক পরিবেশ আছে কি?’ এমপিরা সম্মিলিতভাবে ‘না’ বলার পর তিনি বলেন, ‘তাহলে করণীয় কী—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। মিয়ানমার বরাবরই বলছে যে জাতিসংঘের তদন্তে তাদের আস্থা নেই। তবে লেবার দল মনে করে, মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে পাঠানোর সময় এসেছে।’ তিনি বলেন, ব্যক্তিবিশেষের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার পাশাপাশি মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানো উচিত।

স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির সদস্য প্যাট্রিক গ্র্যাডি মিয়ানমারের সামরিক অধিনায়কদের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে সমর্থন করে বলেন, সব রাষ্ট্রকে অবশ্যই মানবাধিকার আইন মানতে হবে। তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশকে আরো সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান। আগে সংঘটিত বিভিন্ন গণহত্যার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি যে এমনটি আর কখনো হবে না। অথচ আমরা এমন আরেকটি ঘটনার মধ্যেই আছি।’

ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সদস্য জিম শ্যানন বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচার বা এই সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ খুবই অপর্যাপ্ত। যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারের ওপর ব্রিটিশ সরকারকে চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিটিশ এমপিদের আলোচনায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গাশিবিরে থাকা শিশুদের আইনি মর্যাদার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য অ্যান মেইন বলেন, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন আমরা কোনো পক্ষ নেব না। এই সংকট (রোহিঙ্গা সংকট) অনেক দিন থাকবে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের সেবা দেওয়ার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি ক্ষমতার পালাবদল হয় তবে আমি আশা করব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারকে সরাসরি ফোন করে আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য সঠিক উদ্যোগ নিতে চাপ সৃষ্টি করবেন।’

আলোচনা পর্বে রোহিঙ্গা সংকটের নানা দিক উঠে আসে। ব্রিটিশ এমপিরা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার সুযোগ পাওয়ার ওপর জোর দেন।

Check Also

রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জাতিসংঘের

যমুনা নিউজ বিডি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ফের সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল শুক্রবার নিউ …

Powered by themekiller.com