Home / শিক্ষাঙ্গন / রাবি ভিসি কি পূর্বসূরির ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছেন!

রাবি ভিসি কি পূর্বসূরির ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছেন!

যমুনা নিউজ বিডিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি ড. আবদুস সোবহান কি তার পূর্বসূরি সাবেক ভিসি প্রফেসর আলতাফ হোসেনের ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছেন! প্রফেসর আলতাফের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ড. সোবহান দুর্নীতির অভিযোগ করায় প্রশাসন তাকে অপসারণ করেছিল। এখন ড. সোবহানের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে শিক্ষকদের একটি অংশ। ড. সোবহানের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে ১৭ ধরনের দুর্নীতির ৩০০ পাতার অভিযোগ জমা পড়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইউজিসিতে উন্মুক্ত শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। সেখানে উভয়পক্ষকে ডাকা হয়েছে। এ নিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে জল্পনা-কল্পনা তাহলে কি ভিসি ড. সোবহান ও প্রো-ভিসি সিএম জাকারিয়ার বিদায় আসন্ন?

২০১৯ সালের অক্টোবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে ভিসি ড. সোবহান ও প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে সরকারপন্থী প্রগতিশীল শিক্ষকদের একটি অংশ অভিযোগ করেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত ৩০০ পাতার নথি তারা জমা দিয়েছেন। নথিতে ১৭ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, ইউজিসিতে উন্মুক্ত শুনানি নিয়ে সোবহানপন্থী শিক্ষকরা আপত্তি জানিয়েছেন। ২৭ আগস্ট এক বিবৃতিতে ভিসিপন্থী শিক্ষক নেতা ড. মজিবুর রহমান বলেন, ইউজিসিতে শুনানি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিসির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। অন্য দিকে রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মজিবুল হক আযাদ বলেন, ইউজিসিকে চিঠি লিখে ভিসি জানিয়েছেন ইউজিসিতে শুনানি হলে তার কোনো আপত্তি নেই।

রাবি ভিসি-প্রো-ভিসির দুর্নীতি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ও ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম  বলেন, একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে এত দুর্নীতির অভিযোগ কেন? আবার

উন্মুক্ত শুনানি নিয়েও এত কথা কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ একাডেমিক। সেটার উন্নয়নে কিছুই করা হচ্ছে না।

উন্মুক্ত শুনানিতে অংশ নেবেন কিনা জানতে চাইলে ভিসি ড. সোবহান সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। পরে ভিসির মুখপাত্র হিসেবে রাবির জনসংযোগ প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান জানান, এই বিষয়ে ভিসি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসির দায়িত্ব নিয়ে ড. সোবহান অনিয়ম দুর্নীতির ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন। এমন কোনো অনিয়ম নেই যা তিনি ও জাকারিয়া করেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে তাদের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- নিজের মেয়ে ও জামাতাকে শিক্ষকের চাকরি দিতে ড. সোবহান নিয়োগ নীতিমালা, যোগ্যতা ও শর্তাবলী পরিবর্তন করেছেন। এভাবে তিনি রাবির মর্যাদা হানি করেছেন, যা নজিরবিহীন। অ্যাডহক, মাস্টাররোল ও অস্থায়ীভাবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েও তিনি বিপুল নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। শিক্ষক নিয়োগেও বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে ঢালাওভাবে নিজের জেলা নাটোরের আত্মীয়-স্বজনকে ভিসি ড. সোবহান নিয়োগ দিয়েছেন। ৭৩ এর অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে বিভিন্ন বিভাগে সভাপতি নিয়োগেও তিনি অনিয়ম করেছেন। দুর্নীতি করেছেন ভাড়িভাড়া নিয়েও।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২১ জুন দিনের প্রথম ভাগে ড. সোবহান দ্বিতীয়বার উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন। একই দিন তার চাকরির বয়স শেষ হয়। ভিসি হিসেবে সকালে যোগ দিয়ে বিকালে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকতার পদ থেকে তিনি অবসর নেন। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর সুবিধা বাবদ ৮০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা তিনি উত্তোলন করেন। রাষ্ট্রপতির দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করেই তিনি বিকালে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর আখতার ফারুককে কয়েক ঘণ্টার জন্য ভিসির দায়িত্ব দেন। একই দিন রাতে আবার তিনি দায়িত্ব ফিরিয়ে নেন।

নাম প্রকাশ না করে ইউজিসির এক সদস্য বলেন, একই দিন শিক্ষকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ এবং পেনশনের টাকা উত্তোলন নজিরবিহীন। আবার একই দিন স্বেচ্ছায় অন্যজনকে ভিসির দায়িত্ব দেয়া এবং তা ফিরিয়ে নেয়ার মতো ঘটনা নজিরবিহীন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতির দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কাজগুলো করেছেন ড. সোবহান। এসব ড. সোবহানের চরম প্রতারণামূলক কাজ বলে মনে করেন ইউজিসির এই সদস্য।

Check Also

এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়’

 যমুনা নিউজ বিডিঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা নিতে আমরা প্রস্তুত …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com