Home / সারাদেশ / যন্ত্রাংশ জ্বালানি তেল পাচার

যন্ত্রাংশ জ্বালানি তেল পাচার

যমুনা নিউজ বিডিঃ মোংলা বন্দরের বিদেশি জাহাজকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ চোরাচালানি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ চক্রের শক্তিশালী সদস্যরা বন্দরে আগত বিভিন্ন বিদেশি জাহাজ থেকে নদীপথে জ্বালানি তেল, মবিল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র অবাধে পাচার ও লুটপাট করে আনছে।

এতে করে সরকার একদিকে যেমন মোটা অঙ্কের টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে বন্দরের বৈধ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।

বন্দরের জাহাজের চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, মোংলা শহরের রিজেকশন গলি, বাইদ্যাপাড়া কানাইনগর, কুমারখারী, কলেজ মোড় জয় বাংলা, মাদ্রাসা রোড়, মালগাজি, রাতারাতি কলোনি, দিগরাজ, বাজুয়া, লাউডোব, চিলাবাজার, বাণী শান্তাবাজার, মাছমারা, নারকেল তলা, জয়মনীর ঘোলসহ বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিদেশি জাহাজ কেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে শক্তিশালী চোরাচালান চক্র।

এসব চক্রের সদস্যরা ট্রলার ও নৌকাযোগে পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজের নাবিকদের সঙ্গে আঁতাত করে চোরাই পথে জ্বালানি তেল, মবিল, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, রং, ব্যারেল, সোলার প্যানেল, গ্যাসের চুলা, নানা ধরনের লোহা, ঢাল কাঠ, ওয়ার রোপ, হাসিল (জাহাজ বাঁধার বড় রশি), ইলেকট্রনিক্স পণ্য, নানা ধরনের মাদক পাচার করে আনে।

শুধু তাই নয়, বিদেশি জাহাজগুলোতে কুকুর-বিড়াল ও শূকর পাচার করে চোরা গ্রুপের সদস্যরা। এতে একদিকে সমুদ্র এ বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অপর দিকে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

মোংলা বন্দর কাস্টম ভ্যান্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক এমএ মোতালেব জানান, মোংলা বন্দরের কাস্টমসের অধীনস্থ প্রায় ৬০টি ভ্যান্ডার লাইসেন্স রয়েছে। কাস্টমসকে শুল্ক-রাজস্ব দিয়ে ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর ধরে বৈধপথে স্কাপ (পুরাতন মালামাল) ব্যবসা করছেন।

এছাড়া বিদেশি নাবিকদের হয়রানি ও জিম্মি করে নগদ অর্থ কড়িসহ জাহাজের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে থাকে এ চক্রটি। এতে বন্দরের সুনামও নষ্ট হচ্ছে।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কোস্টগার্ড মোংলা (পশ্চিম) জোনের সদস্যরা চোরাচালানি চক্রের পাচার করে আনা দুটি বড় ধরনের চালান জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

এ সময় কোস্টগার্ডের হাতে উদ্ধার অবৈধ পণ্য ও আটক তিন চোরাচালানিকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত রোববার ভোররাতে বন্দরের প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে গড়ে ওঠা এ চক্রের শক্তিশালী সদস্যরা বন্দরে আগত একটি বিদেশি জাহাজ থেকে নদীপথে নৌযান যোগে ৩৯টি ড্রামে ১৯৫০ লিটার লুব ওয়েল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাসের চুলা, গ্যাসের সিলিন্ডারসহ কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র পাচার করে আনে।

কোস্টগার্ডের পশ্চিম (মোংলা) জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার শাহরিয়ার পারভেজ জানান, কোস্টগার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কমান্ডার নুর মুহাম্মদ এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, বন্দরের চ্যানেল তথা নৌ-পথের দায়িত্ব কোস্টগার্ডের। আর বন্দরের স্থলভাগের দায়িত্ব পালন করছে বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষীদের। এ ক্ষেত্রে নদীপথের দায়িত্ব বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে কোস্টগার্ড তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে চলেছে।

Check Also

১৩০ পিস ইয়াবাসহ মা-ছেলে এবং ৩ কেজি গাঁজাসহ যুবক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে পৃথক দু’টি পুলিশ অভিযানে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ মা-ছেলে ও ৩ …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com