Home / সারাদেশ / বগুড়া / বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের সম্প্রসারণের কাজেও করোনার থাবা

বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের সম্প্রসারণের কাজেও করোনার থাবা

যমুনা নিউজ বিডিঃ বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের সম্প্রসারণের কাজেও থাবা বসিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস! কী পাঠক অবাক হচ্ছেন? খটকা লাগছে? হ্যা ঠিকই শুনছেন। করোনা মহামারি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অন্য অনেক প্রকল্পের মত বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ স্থগিত হয়ে গেছে। ফলে ঠিকাদাররাও হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। কবে নাগাদ আবার কাজ শুরু হবে তা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
সূত্রগুলো বলছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নর ক্ষেত্রে প্রকল্পটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখিয়ে তার বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সওজের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নানা চেষ্টা তদ্বির চালানো হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি সরকারের তালিকায় ‘সি’ ক্যাটাগরীর (কম গুরুত্বপূর্ণ) হওয়ায় সেই চেষ্টা-তদ্বির আদৌ সফল হবে কি’না তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। এদিকে সম্প্রসারণ কাজ শুরু হবে বলে নিয়ম অনুযায়ী ওই মহাসড়কের বার্ষিক সংস্কার কাজও বন্ধ রাখা হয়েছে। আর সংস্কারের অভাবে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। গেল বর্ষায় অতি বৃষ্টিতে খানাখন্দগুলো রীতিমত বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। খুব শিগগিরই যতি মহাসড়কটি মেরামত না করা হয় তাহলে সেটি যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
বগুড়া থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীমুখী সড়কটি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি আগে ১৯৬২ সালে নির্মাণ করা হয়। সে সময় বগুড়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ওই সড়কটির প্রশস্ততা ছিল মাত্র ১৮ ফুট। নির্মাণের ১৮ বছর পর ১৯৮০ সালে ওই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে। খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের বিভাজক পদ্মা নদীর ওপর পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা অংশে ২০০৪ সালে ‘লালন সেতু’ নির্মাণের পর বগুড়া-নাটোর সড়কে যান চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশস্ততা বাড়ানো হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশে মহাসড়কের ন্যুনতম প্রশস্থতা ২৪ ফুট। কিন্তু বগুড়া-নাটোর ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের প্রশস্ততা মাত্র ১৮ ফুট। অবশ্য তার পরেও গুরুত্ব বিবেচনায় সেটিকে কাগজে-কলমে মহাসড়ক হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে প্রশস্ততা কম হওয়ায় যাত্রীবাহী বড় বাস এবং পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলে সমস্যা হয়। এক সঙ্গে বড় দু’টি বাস কিংবা ট্রাক পাশাপাশি চলতে পারে না বলে সড়কের পাশে মাটিতে নেমে সাইড দিতে হয়। বর্ষাকালে সেই মাটি কর্দমাক্ত ও নরম থাকে বলে তাতে চাকা নামালে আর তোলা যায় না। ফলে ওই সময়ে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া হালকা যানবাহনগুলোও চলাচল করতে পারে না। কিন্তু তার পরেও বাস্তবতা হলো সরু ওই সড়কে বছর বছর যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সওজের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বগুড়া-নাটোর সড়কে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে।
গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কটিকে ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট (মুল সড়ক ২৪ ফুট এবং দু’ পাশে ৫ ফুট করে পেভমেন্ট থাকবে) প্রশস্ত করণের জন্য ২০১৯ সালের শুরুতে সওজের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) একই বছরের ৫ জুলাই ৭০০ কোাটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। এরপর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ শেষে চলতি বছরের জানুয়ারিতে টেন্ডার আহবান করা হয়। সওজ বগুড়া বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-নাটোর সড়কের বগুড়া অংশের ৩২ কিলোমিটার অংশের সম্প্রসারণের জন্য গেল জুন মাসে ৩জন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে তারা কাজ শুরু করার জন্য সাইটে মালামাল আনতে শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেলে তা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘সি ক্যাটাগরী’ (কম গুরুত্বপূর্ণ) অন্য অনেক প্রকল্পের মত বগুড়া-নাটোর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়। আর এ খবর ঠিকাদারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা হাত গুটিয়ে নেয়। ফলে দৃশ্যমান কোন কাজ আর এগোয়নি।
এদিকে সম্প্রসারণ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্তিতে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের মেরামত বন্ধ রাখায় প্রায় পুরো সড়ক জুড়ে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে নিত্য যাতায়াতকারী নন্দীগ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারিক জানান, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সেই গর্তগুলো ক্রমশ বড়ই হচ্ছে। যে কারণে বাস ও ট্রাকগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে খুব ধীর গতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। বগুড়া শহরের একটি রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানের চালক শাহিন হোসেন জানান, বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের অবস্থা এখন এতটাই খারাপ হয়েছে যে রাজশাহী যেতে হলে বগুড়া-নওগাঁ হয়ে অতিরিক্ত ২০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলন বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে দ্রুত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বগুড়া-নাটোর সড়কের পাশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবেন।
এজন্য দ্রুতই কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’ সওজ বগুড়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে। যে কারণে অন্য অনেক প্রকল্পের মত বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ আপাতত স্থগিত বা কেটে রাখা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এ কারণে ঠিকাদাররা কাজ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েও পরে থেমে গেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ওই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ তাই অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার ব্যাপারে আমরা নানা পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আশাকরি খুব দ্রুতই ইতিবাচক কিছু হবে।’

 

Check Also

সুদের টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঋণের সুদ দিতে না পারায় সোমা রানী দাস নামের এক গৃহবধূকে …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com