Home / তথ্যপ্রযুক্তি / ফেসবুকে ‘মৃতদের সমাধি’

ফেসবুকে ‘মৃতদের সমাধি’

যমুনা নিউজ বিডি: ফেসবুক বানানো হয়েছিল আসলে জীবিতদের জন্যে। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোশ্যাল প্লাটফর্মের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অনেক ব্যবহারকারীও বিদায় নিয়েছেন। কাজেই মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হচ্ছে তাদের। ২০১৫ সালে নতুন এক নিয়ম চালু করে ফেসবুক। কোনো ব্যবহারকারীর অবর্তমানে তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্যে অন্য কাউকে আইনগত অধিকার প্রদান করা যাবে। কিন্তু নিয়মটি নিখুঁত ছিল না এবং ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় গলদ দেখতে পান।

গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুক মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্টের আইনগত পরিচালককে আরো বেশি নিয়ন্ত্রণে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে দেয়া হয়েছে ‘ট্রিবিউট’ অনুচ্ছেদ। এই ফিচারের মাধ্যমে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরতে ফেসবুকের দৃষ্টিভঙ্গী ফুটে উঠেছে।

ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ বলেন, আমার অনেক কাছের বন্ধু আছেন। বিশেষ করে একজন তার কাছের মানুষদের হারিয়েছেন এবং আমাকে বলেছেন তাদের স্মৃতিগুলোর পরিচর্যা ফেসবুকের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার বন্ধু কিমের ভাই আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তার স্মৃতি ধরে রাখতে কিম এবং তার মায়ের ভালো কোনো উপায় ছিল না। সেখানে এগিয়ে এসেছে ফেসবুক। চলে যাওয়া মানুষটির স্মৃতি জমিয়ে রাখার একটা স্থান পেয়েছেন তারা।

এই প্লাটফর্মে জীবনে বড় বড় ঘটনা শেয়ার করতে উৎসাহ দেয় ফেসবুক। যেমন- বিয়ের দিন, সন্তান হওয়ার দিন, নতুন চাকরি পাওয়া ইত্যাদি। এটা কেবল একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, এটা একটা স্মৃতি বিজড়িত বইও বটে। কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারী মারা গেলে তারা যুগের স্মৃতি ফেসবুকে রেখে দেবেন। কিন্তু এটা কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। কাছের মানুষের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রাইভেসিসহ জীবিতের আয়োজনকে আরো বেশি গোছাতেই নতুন আয়োজন ফেসবুকের, জানান প্রোডাক্ট ম্যানেজার অ্যালি এলি।

তিনি আরো বলেন, কেউ যেন অন্য কারো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। মৃতদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্যে আমরা কাউকে আইনগত অধিকার দিতে চাইছি। আর এই মানুষটি মৃতের প্রোফাইল নিয়ন্ত্রণ করবেন।

স্বজন হারানো ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা অভিযোগ তোলার পর ফেসবুক মঙ্গলবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কাউকে আইনগত অধিকার দেয়ার আগে প্রোফাইলটি অবশ্যই ‘মেমোরালাইজড’ করতে হবে। অর্থাৎ, নিশ্চিত করতে হবে যে ওই ব্যক্তি আসলেই মারা গেছেন। এখন থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের কেউ অ্যাকাউন্টটি ‘মেমোরালাইজড’ করার আবেদনকরতে পারবেন।

তবে ফেসবুক ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে মৃতের অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রক হতে পারবেন না। আবার এর আগে কারো সন্তান মারা গেলে বাবা-মা সেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারতেন না। তবে এবার সেই অধিকার পিতা-মাতা পাচ্ছেন।

একবার কোনো অ্যাকাউন্ট ‘মেমোরালাইজড’ হলে অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি মৃতের প্রোফাইলের ছবি বা কভার বদলাতে, পোস্ট লিখে তা পিন করা ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন। তবে তারা ব্যক্তিগত বার্তা পড়া বা তা মুছে ফেলতে পারবেন না। সেখানে একটি ‘ট্রিবিউট’ অনুচ্ছেদও থাকবে। সেখানে প্রিয়জনরা কমেন্ট শেয়ার করতে পারবেন। এটা মৃতের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে পৃথক ডেডিকেটেড অংশ হিসেবে বিরাজ করবে। এই অংশটি ডিজিটাল মেমোরিয়াল কিংবা সমাধি হিসেবে বিবেচিত হবে।
সূত্র: ওয়্যার্ড

Check Also

বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে গুগলের বিশেষ ডুডল

যমুনা নিউজ বিডি: আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’। অন্যান্যদের মতো দিবসটি পালন করছে …

Powered by themekiller.com