Breaking News
Home / সারাদেশ / ফরিদগঞ্জে রুবি হত্যায় জড়িতদের শাস্তি দাবি বাবার

ফরিদগঞ্জে রুবি হত্যায় জড়িতদের শাস্তি দাবি বাবার

যমুনা নিউজ বিডি ঃ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু রুবি হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা টেলু মিজি। আজ শুক্রবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ দাবি জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে টেলু মিজি বলেন, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করছিলাম। আমার মেয়ে রুবি আক্তার (৭) উপজেলার সেকদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই প্রতিদিনের ন্যায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় রুবি। কিন্তু ওই দিন সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। ফলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখুঁজি শেষে দুই দিন পর ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করি। প্রায় মাস খানেক পর জনৈক সোলেমান মিজির বাড়ির পাশের ডোবায় একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রুবি আক্তারের গলিত লাশ দেখতে পায় এলাকাবাসী।

পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করে। এ ছাড়া আমার মেয়ে মৃত রুবি আক্তারের ডিএনএ সংগ্রহপূর্বক আমার ও আমার স্ত্রীর ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় যে মৃতদেহটি আমার মেয়ে রুবি আক্তারের।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লৈখ করা হয় আমার মেয়ে রুবি আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন (পালাক্রমে ধর্ষণ) শেষে শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল ঘাতকরা। শুধু তাই নয় পাশবিক ওই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মাসুম হোসেন মিন্টু (২৫), (বর্তমানে জেল হাজতে থাকা) এবং জামিনে বেরিয়ে আসা আসামি জুয়েল (২২) নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কলা গাছ দিয়ে চাপা দিয়ে ওই ডোবায় ডুবিয়ে রেখেছিল।

লিখিত বক্তব্যে শিশুটির বাবা আরো বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি কিনা, কখন কি করছি খোঁজ-খবর নিতে থাকে ধৃত আসামিরা। এমনকি তারা এলাকায় এমন কথাও বলেছে আমার মেয়েকে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু যখনি আমার মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেল তখন থেকেই ওই দুইজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির পর নতুন তদন্ত কর্মকর্তা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রধান আসামি সেকদি গ্রামের মাসুম হোসেনকে পাশের লক্ষ্মীপুর জেলার থেকে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে দ্বিতীয় আসামি জুয়েলকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে।

২০১৬ সালের ২৭ জুলাই তদন্ত শেষে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছুদিন পর মামলার দ্বিতীয় আসামি জুয়েল জামিনে বেরিয়ে আসে। এরপর সে আমাদেরকে প্রাণনাশসহ মামলা তুলে নেওয়ার অব্যাহত হুমকি দিতে থাকে। আমি এ বিষয়ে প্রথমে চাঁদপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ এবং পরে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। কিন্তু তারপরও অভিযুক্ত জুয়েল আমাদের প্রাণনাশের অব্যাহত হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জীবনযাপন করছি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আদালতে এই মামলাটির তেমন একটা অগ্রগতি নাই শুধু হাজিরার দিন আদালতে আসা-যাওয়ার মধ্যে দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। তাই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী নোমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রুবির মা ফাতেমা বেগম, প্রতিবেশী শাহাদাত হোসেন, মহসিন হোসেন, সালেহা বেগম প্রমুখ।

Check Also

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত

ষ্টাফ রিপোর্টার:  বগুড়া জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে রবিবার সকালে …

Powered by themekiller.com