Home / রাজনীতি / প্রার্থীর ভিড় আওয়ামী লীগে, বিএনপিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

প্রার্থীর ভিড় আওয়ামী লীগে, বিএনপিতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

যমুনা নিউজ বিডি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল জেলার আটটি নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। এ নিয়ে একে অপরের মধ্যে বিরোধও রয়েছে। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সভা-সমাবেশের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ দিচ্ছেন, অনুদান দিচ্ছেন।

অন্যদিকে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও আতঙ্ক। নিজেদের মধ্যে বিরোধও আছে। আগেকার মামলা এবং সাম্প্রতিক ‘গায়েবি’ মামলায় দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে অনেকে। তবে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নজরে পড়ছে না। মাঝে-মধ্যে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে তারা।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের দাপোট বেশি। ২০০১ সাল থেকে এ আসনটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এবারও এ আসন থেকে তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন—এটি প্রায় চূড়ান্ত। তার পরও দলের আরো কজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। দলের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবু এবং স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. সানোয়ার হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে।

অন্যদিকে বিএনপি চায় হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এবারও মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। গত দুই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাকের কাছে পরাজিত হন।

ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ছাড়াও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তিনবারের সাবেক পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম সরকার শহিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ডাকসুর সদস্য ও সাবেক এমপি খন্দকার আনোয়ারুল হক।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা আবু সাঈদ মন্টু দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানা যায়। জাতীয় পার্টির মধুপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল হান্নান ইস্পাহানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধুপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা জহিরুল ইসলাম দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি এবার নির্বাচন করবেন না। তাঁর জায়গায় তাঁর ছেলে মশিউজ্জামান রোমেল নির্বাচন করবেন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় কাজ করছেন। অন্যদিকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় অনেক দিন ধরে ভূঞাপুর-গোপালপুর চষে বেড়াচ্ছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির। এ ছাড়া মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন গোপালপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ইমলাম তালকুদার। তিনিও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নের বিষয়ে মূলত এই তিনজনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। সমপ্রতি আমেরিকাপ্রবাসী ড. নুরুন্নবীও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুই দলের মনোনয়ন পাবেন—এটা প্রায় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে না পারলে তাঁর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। এ ছাড়া ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এ আসনেও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পার্টির জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হক তালুকদার সানু, জেপির আজিজ বাঙ্গাল দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার নির্বাচনী আসন। তিনি ওই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। দলীয় নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে আমানুর রহমান খান রানাকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু।

আমানুর রহমান খান রানা কারাগারে থাকলেও তিনি মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়নের প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি সৈয়দ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তুহিন। তিনি এলাকায় কাজ করছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। তিনি সম্প্রতি টাঙ্গাইলের একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দলের মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া মনোনয়ন চাওয়ার তালিকায় রয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস আকবার খান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শহিদুল ইসলাম। এদিকে বাবার আসন পেতে মাঠে নেমেছেন সাবেক এমপি প্রয়াত ডা. মতিউর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান। এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে এ আসনে বিএনপির মধ্যে তেমন কোনো সমস্যা নেই। একাধিক নেতার মধ্যে মনোনয়নের প্রতিযোগিতা থাকলেও দলে কোন্দল নেই। এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দলের কেন্দ্রীয় নেতা লুত্ফর রহমান খান আজাদ। এবারের নির্বাচনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন তিনি। এরপর শোনা যাচ্ছে জেলা বিএনপির  কোষাধ্যক্ষ শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের নাম। মনোনয়নের প্রত্যাশায় তিনি মসজিদ-মাদরাসাসহ সামাজিক সংগঠন, নানা অনুষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন।

জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে অ্যাডভোকেট সুজাত আলী ও বিএনএফের প্রার্থী হিসেবে আতোয়ার রহমান খান নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন বরাবরই গুরুত্ব বহন করছে। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে চারবার এই আসনের এমপি হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যও ছিলেন। হজ ও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে মন্ত্রিত্ব হারান এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করায় এই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তরুণ রাজনীতিবিদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি নির্বাচিত হন। তারপর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপকভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। অনেকেই মনে করছে এবারও তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও  কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু নাসের এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কুদরত ই এলাহী খান। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর সহধর্মিণী বেগম লায়লা সিদ্দিকীও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি লুত্ফর রহমান মতিন মনোনয়নের ব্যাপারে এগিয়ে আছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালাচ্ছেন ও গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম মিঞা। এ আসনে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের সহধর্মিণী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রাবেয়া সিরাজ মনোনয়ন চাইতে পারেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, মালয়েশিয়াপ্রবাসী প্রকৌশলী বাদলুর রহমান বাদল, বেনজীর আহমেদ টিটু, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ এম এম এ খালিদ দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে।

কালিহাতীতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ মুস্তাক হোসেন রতন দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চমক দেখা যেতে পারে। এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতীয় পার্টি মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করলে তাদের এ আসনটি ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ। সে ক্ষেত্রে সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়া টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ইনডেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মুনির মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন। তা না হলে বর্তমান এমপি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার হোসেন হবেন মহাজোটের প্রার্থী। তিনি এবারও মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি। এতে আলোচনা শুরু হয়েছে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে ফিরে যাচ্ছেন। যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর জোট হয় তাহলে হয়তো তাঁর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হবেন। এ সব কিছু নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের ওপর।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত ফারুক আহমেদের স্ত্রী দলের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহার আহমেদ, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এ আসনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান এবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। এ ছাড়া এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার আহসান হাবিব, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ছাইদুল হক ছাদু। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালও মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কাশেম,  দলের জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক মনোনয়নপ্রত্যাশী।

জাতীয় পার্টির (জেপি) নির্বাহী সম্পাদক সাদেক সিদ্দিকী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে পারেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন সৈয়দ খালেদ মোস্তফা। তিনি নির্বাচনী এলাকায় মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।

টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র কোন্দল রয়েছে। প্রধানত তিনটি খণ্ডে বিভক্ত নেতাকর্মীরা। একদল খন্দকার আব্দুল বাতেন, আরেক দল আহসানুল ইসলাম টিটু এবং অন্য দল তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের পক্ষে। এই তিনজনের মধ্যেই মূলত মনোনয়ন লড়াই।

এবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান এমপি খন্দকার আবদুল বাতেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবার সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এমপি হওয়ার মানসে এই আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তিনি ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু। তিনি প্রায়ই নাগরপুর ও দেলদুয়ারে গণসংযোগ করছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক তারেক শামস্ খান হিমু, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইনসাফ আলী ওসমানী, নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন। এ ছাড়া সৈয়দ মাহমুদুল ইলাহ লিলুও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বেশি সম্ভাবনা দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর। এলাকায় অবস্থান করে কাজ করেছেন তিনি। বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রবিউল আওয়াল লাভলু, কেন্দ্রীয় জাসাসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির সাবেক নির্বাহী সদস্য শরিফুল ইসলাম স্বপন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনটি আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান খান ফারুকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের হয়। বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ পেয়ে তিনি ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তিনি মির্জাপুরে আওয়ামী লীগের ঘর গুছিয়ে চলে আসেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। তাঁর জায়গায় আসেন আওয়ামী লীগ নেতা একাব্বর হোসেন। তিনি এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। বর্তমান সংসদ সদস্যও তিনি। এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী।

ফজলুর রহমান খান ফারুকের গুছিয়ে রাখা ঘরে এবার উঠতে চাচ্ছেন তাঁর ছেলে খান আহমেদ শুভ। তিনি অনেক দিন ধরে মির্জাপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় তিনি নিয়মিত মির্জাপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে নেতাকর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান মীর শরীফ মাহমুদও দলের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করছেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এর আগে তিনি এই আসনে বিএনপির টিকিটে দুবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ফিরোজ হায়দার খান।

জাতীয় পার্টি থেকে দলের মনোনয়ন পাওয়ার আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির। খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মজিবুর রহমান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার প্রত্যাশায় গণসংযোগ করছেন।

টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর কারণে খুবই আলোচিত। তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেননি। এতে আলোচনা শুরু হয়েছে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে ফিরে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কি মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন নাকি তাঁর নিজ দলের প্রার্থীই হবেন—আলোচনা এ নিয়েও। তবে যে দলেরই হোক না কেন তিনি নির্বাচন করছেন এটা নিশ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গণসংযোগ করছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কজন মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রচার ও গণসংযোগ করছেন। বর্তমান এমপি অনুপম শাহাজাহান জয় এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় কাজ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশায় ছুটছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম। তিনি সাবেক ছাত্রনেতা, সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি। মনোনয়ন দৌড়ে আছেন সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার, প্রকৌশলী আতাউল ইসলাম, অধ্যক্ষ সাঈদ আজাদ, সাবেক শ্রমিক নেতা আব্দুস সালাম খান, সরকার আরিফুজ্জামান ফারুক, ইঞ্জিনিয়ার আসাদুল হক তালুকদার। তাঁরা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।

এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাঁর প্রত্যাশা এবারও পূরণ হতে পারে বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আশরাফ সিদ্দিকী দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

Check Also

রিজভী মিথ্যাচার করেন : হাছান মাহমুদ

যমুনা নিউজ বিডি: আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রিজভী আহমেদ বলেছেন- …

Powered by themekiller.com