Home / ধর্ম জিজ্ঞাসা / পানি পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার নির্দেশ ও কারণ

পানি পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার নির্দেশ ও কারণ

যমুনা নিউজ বিডিঃ  হাদিস শরিফে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, যেকোনো ভালো কাজ আল্লাহ নামে শুরু না হলে সেটা অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত থেকে যায়। এই হাদিসের মাধ্যমে রাসূল (সা.) প্রত্যেক মুসলমানকে এই নির্দেশনা দিচ্ছেন যে, তোমরা তেমাদের সব ভালো কাজ আল্লাহর নামে শুরু কর।

ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সারগর্ভ একটি দোয়া। সব কাজের শুরুতে এই দোয়া পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়। বাথরুমে ঢোকার সময়। বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময়। খানা খাওয়ার আগে। পানি পান করার আগে। বাজারে যাওয়ার আগে। মসজিদে প্রবেশের সময়। সমজিদ থেকে বার হওয়ার সময়। কাপড় পরার সময়। গাড়ি চালানোর সময়। গাড়িতে ওঠার সময়। গাড়ি থেকে নামার সময়। ঘরে ঢোকার সময়। সব সময় সব অবস্থায় আমাদেরকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলতে বলা হয়েছে।

প্রত্যেক কাজের পেছনে আল্লাহ তায়ালার নেজাম লুকায়িত:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম কোনো মন্ত্র না, যা আমাদেরকে শুধু আওড়ানোর জন্য দেয়া হয়েছে। বরং এর পেছনে অনেক হাকিকত ও দর্শন রয়েছে। তা হলো, মানুষ যে কাজই করুক, আল্লাহ তায়ালার তাওফিক ছাড়া সম্ভব নয়। যেকোনো বিষয় আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এটা আমার চেষ্টা ও মেহনতের ফসল। কিন্তু গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে যে, এর মধ্যে আমার মেহনত-মুজাহাদার ফসল খুবই সামান্য। বরং এর পেছনে আলাহ তায়ালার প্রভুত্বের নেজামই দৃষ্টিগোচর হবে বিপুল পরিমাণ।

এক গ্লাস পানির পেছনেও আল্লাহ তায়ালার কুদরত:

উদাহরণত এক গ্লাস পানি পান করার সময়ও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়ার নির্দেশ রয়েছে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হবে পানি পান একটা সাধারণ বিষয়। এর মধ্যে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলার দরকার কি? ঘরের মধ্যে পানি আছে, ঠাণ্ডা রাখার জন্য ফ্রিজও আছে। সুতরাং ফ্রিজ থেকে বের করে ঠাণ্ডা পানি পান করলেই তো হয়ে যায়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হবে আমি টাকা পয়সা খরচ করে ঠাণ্ডা পানি পান করছি। এই চিন্তা খুব কম মানুষেরই আসে যে, এই এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানির পেছনেও রয়েছে আল্লাহ তায়ালার কুদরত।

মানুষের জীবন পানির ওপর নির্ভরশীল:

মানুষের জীবন পানির ওপর নির্ভরশীল। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ.

‘আমি প্রত্যেক প্রাণীকে পানি থেকেই সৃষ্টি করেছি।’ ‘সূরা: আমবিয়া, আয়াত: ৩০)। এ আয়াত থেকে বুঝা যায় পানি থেকে শুধু মানুষকেই সৃষ্টি করা হয়নি বরং অন্যসব প্রাণীও পানি থেকেই সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক প্রাণীর জীবন নির্ভর করে পানির ওপর। এই জন্য আল্লাহ তায়ালা এত বেশি পানি সৃষ্টি করেছেন যে, পৃথিবীকে তিন ভাগে ভাগ করলে একভাগ হবে স্থলভাগ আর দুই ভাগ হবে জলভাগ। তাছাড়া সমুদ্রের পানির মধ্যে আল্লাহ তায়ালা লবণাক্ততা সৃষ্টি করেছেন। যাতে কোনো প্রাণী পানিতে মারা গেলে পানি নষ্ট না হয়ে যায়। যদি পানির স্বাদ মিষ্টি হত তাহলে যেকোনো প্রাণী পানিতে মারা গেলে পানি নষ্ট হয়ে যেত। এই সবই আল্লাহ তায়ালার কুদরত।

পানি যদি কেবল সমুদ্রেই থাকত তা হলে কী হত?

আল্লাহ তায়ালা এও করতে পরতেন যে, আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রের মধ্যে পানি রেখে দিয়েছি, তোমরা সেখান থেকে পানি নিয়ে এসে পান কর। এবং লবণাক্ত পানি মিঠা পানি বানিয়ে পান কর। তাহলে কারো পক্ষে কি সম্ভব হত এভাবে পানি পান করা? কষ্ট করে সমুদ্র থেকে পানি আনতে পারলেও একে মিঠা পানিতে পরিণত করার শক্তি কি কার ছিল?

মিঠা পানি এবং তা সাপ্লাইয়ের কুদরতি নেজাম:

সৌদি সরকার কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে সমুদ্রের লোনা পানি মিঠা করে। এই জন্য বিভিন্ন জায়গায় লেখা রয়েছে যে, এই পানি খাওয়ারর উপযোগী করার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। অতএব, পানির অপচয় রোধ করি। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা সুমুদ্রের পানিকে মিঠা বানানোর জন্য এই নেজাম করেছেন যে, বৃষ্টির আকারে সমুদ্র থেকে পানি উপরে উঠিয়ে পানির ক্ষার দূর করে দেন। ফলে পানি মিঠা হয়ে যায়। যদ্দরুন যেসব লোক সমুদ্রের হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে, যাদের জন্য সরাসরি সমুদ্রের পানি ব্যবহার সম্ভব না, তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টির আকারে বিনা পারিশ্রমিকে পানি প্রস্তুত করে দেন।

মেঘ বিনিময়হীন কার্গো সার্ভিসের কাজ করছে:

আল্লাহ তায়ালা কাফের-মুমিন সব ধরনের মানুষের জন্য এই সিস্টেম চালু রেখেছেন যে, মেঘমালা বিনিময়হীন কার্গো সার্ভিসের কাজ দিচ্ছে। সমুদ্র থেকে পানি উঠিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে কোনো টাকার দরকার হয় না।

সারা বছরের পানি মজুদ রাখা সাধ্যের বাইরে:

মেঘমালার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঘর পর্যন্ত পানি পৌঁছে দিয়েছেন। এখন যদি আল্লাহ তায়ালা এই ঘোষণা দেন যে, তোমরা সারাবছরে পানি একসঙ্গে বিভিন্ন পাত্রে সংরক্ষণ করে রাখ তাহলে কি এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল সারা বছরের পানি একসঙ্গে সংরক্ষণ করে রাখবে। মানুষের কাছে কি এমন কোনো হিমাগার আছে, যেখানে তারা সারাবছরের পানি একসঙ্গে মজুদ ও সংরক্ষণ করে রাখবে। আল্লাহ তায়ালা জানতেন যে, কমজোর বান্দাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয়।

আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হিমাগার:

আল্লাহ তায়ালা মেঘমালার পানি পাহাড়-পর্বতের ওপর বর্ষণ করেন। পাহাড়কে পানি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার বানিয়েছেন। পাহাড়ের মধ্যে রবফ আকারে পানি জমা করে রেখেছেন। পাহাড়কে আল্লাহ তায়ালা একদিকে দেখতে খুব দৃষ্টিনন্দন মনোমুগ্ধকর করে সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে এত উঁচুতে একে সৃষ্টি করেছেন যে, মানুষ এই পানি নষ্ট করতে পারবে না।

নদী-নালার মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা:

যদি আল্লাহ তায়ালা বান্দাদেরকে বলতেন যে, আমি পাহাড়-পর্বতের মধ্যে বরফ হিসেবে পানি জমা রেখেছি, তোমরা সেখান থেকে পানি সংগ্রহ কর, তাহলে বান্দার জন্য পাহাড়ে গিয়ে পানি আনা কি সম্ভব ছিল? এটা বান্দার সাধ্যে ছিল না বলেই আল্লাহ তায়ালা বললেন, তোমাদের জিম্মাদারিও আমি নিয়ে নিলাম। আল্লাহ তায়ালা সূর্যের তাপের মাধ্যমে বরফ গলার ব্যবস্থা করেছেন। এরপর বরফ বিগলিত পানি চলাচলের জন্য নদী-নালা, খাল-বিলের ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং পাহাড়ে জমা বরফ পানি হয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসে। জমিনের পরতে-পরতে আল্লাহ তায়ালা পানির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। পাইপের মাধ্যমে যেমন পানির ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে মাটি খনন করা হবে পানি বের হয়ে আসবে।

এই পানির ব্যবস্থা আল্লাহ তায়ালা করেছেন:

আল্লাহ তায়ালা পানি সমুদ্র থেকে পাহাড়ে জমা রেখেছেন। এরপর পাহাড় থেকে বরফ গলানো পানি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন নদী-নালা ও খাল-বিলের মাধ্যমে। মানুষের কাজ শুধু এতটুকু যে, এই পানি সামান্য মেহনত করে ঘরে নিয়ে তৃষ্ণা ও প্রয়োজন পুরো করা। সুতরাং গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে বুঝা যায় যে, এই পানি সমস্ত মাখলুকের শক্তি ব্যয় হওয়ার পর আপনার পর্যন্ত পৌঁছেছে। কাজেই এই পানি পান করার সময়, আল্লাহর নাম নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বান্দাকে এই দিকে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য বলা হয়েছে যে, তুমি যে পানি পান করছ তা তোমার শক্তির কারণে না বরং আল্লাহ তায়ালা এই পানির ব্যবস্থা করেছেন।

শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পানি প্রয়োজন:

বান্দার পানি পান করার মধ্য দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ হয়। কিন্তু সে জানে না যে, পানি পান করার কারণে শরীরের কোন অঙ্গের ফায়েদা হচ্ছে। বান্দার এই কথা জানা নেই। সে শুধু জানে তার তৃষ্ণা লেগেছে। পানি দরকার। পানি পানের মাধ্যমে সে নিজের তৃষ্ণা নিবারণ করল। তার এ কথা জানা নেই যে, তার পিপাসা কেন লাগল? এও জানা নেই যে, তৃষ্ণা লাগার পর পানি পান করলে কী হয়? আপনার পিপাসা তো এই জন্য লেগেছিল যে, আপনার শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পানি দরকার ছিল। যদি মানুষের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয় তাহলে মানুষ মারা যায়।

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করা ক্ষতিকর:

মানুষের শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গের জন্য পরিমিত পানির দরকার। একেবারে কমও না যে, পানি শূন্যতা দেখা দেবে। আবার একবারে বেশিও না যে, শরীর ফুলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। এই জন্য পরিমাণ মতো পানি পান করা দরকার।

Check Also

শুধু নামাজেই নয়, সব সময়ই টাখনুর উপর কাপড় উঠানো জরুরি

যমুনা নিউজ বিডিঃ দুনিয়ার মিথ্যা মোহ মানুষকে ভুলিয়ে দেয় ধর্মীয় বিধি-নিষেধগুলো। কেউ কেউ আবার নিজের …

error: Content is protected !!
%d bloggers like this:

Powered by themekiller.com