Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে

নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে

কয়েক সপ্তাহের উত্তাপ-উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে খুলনা নগরবাসী তাঁদের নগরপিতা বেছে নেবেন কাল। রবিবার মধ্যরাত থেকে সেখানে বন্ধ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে খুলনায় বিরাজ করছে জাতীয় নির্বাচনের আবহ। ভোটের পরিবেশ নিয়ে গত কয়েক দিনে সেখানে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনীতিতে যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি পর্যবেক্ষক মহলের। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটার—সবার কাছেই সিটি করপোরেশন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কাল খুলনায় যে নির্বাচন হবে, তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ছাড়াও দলীয় প্রতীকে অংশ নিচ্ছে জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এর আগে কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তার ধারাবাহিকতা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় খুলনা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের চাপে থাকতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো খুলনার নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আশা করা যায়, ভালোভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নির্বাচন কমিশন আস্থা ও পরিবেশ তৈরির পথে আরো একধাপ অগ্রসর হবে। নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল থেকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে খুলনা মহানগরী। পুলিশ, এপিবিএন, আনসার ব্যাটালিয়ন মিলিয়ে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের ১০টি টিম, র‌্যাবের ৩১টি টিম এবং ১৬ প্লাটুন বিজিবি মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। তিন থেকে চার প্লাটুন বিজিবি রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই হয়ে যাবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যেমন খুলনা সিটিতে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে পারবে, তেমনি বিএনপিও তাদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা গত কয়েক দিনে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলে ধরেছেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচন শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যেকোনো নির্বাচনে ভোটব্যাংক বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রত্যেক দলের যেমন নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকে, তেমনি এলাকা বিশেষে কিছু ভোটব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখে। জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার, যেকোনো নির্বাচনেই ভোটব্যাংকের বড় ভূমিকা রয়েছে। খুলনায় এবার ৫০ সহস্রাধিক নতুন ভোটার ভোটব্যাংক হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাল যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা অবাধ, সুষ্ঠু হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Check Also

দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রকৃতি ক্রমে অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বা গ্রীষ্মকালে যেখানে কাঠফাটা রোদ থাকার কথা, সেখানে …

Powered by themekiller.com