Home / সারাদেশ / রাজশাহী বিভাগ / নাটোরে আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মি খান্নাস হত্যা মামলা রায় ৪ জনকে ফাঁসি, আমৃত্যু ১

নাটোরে আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মি খান্নাস হত্যা মামলা রায় ৪ জনকে ফাঁসি, আমৃত্যু ১

মোস্তাফিজুর, নাটোর:নাটোরের লালপুরের আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মি মোয়াজ্জেম হোসেন খান্নাস (২৪) হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড, একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ১৩ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক এই আদেশ দেন।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, লালপুরের বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে শুকুর হোসেন ওরফে বাবু, শহিদুল ইসলাম মাস্টারের দুই ছেলে শামীম হোসেন ও সুজন হোসেন এবং আব্দুল মালেকের ছেলে আব্দুল মতিন। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন, একই এলাকার ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে সান্টু মিয়া।
এছাড়া বেকসুর খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছে, লালপুর উপজেলার সাইপাড়া এলাকার আছান ড্রাইভারের ছেলে আলম, কচুয়া এলাকার আলাল উদ্দিনের ছেলে কালু, কাবুল, কৃষ্ণরামপুর গ্রামের বিচ্ছাদ আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম, ইসমাইলের ছেলে বাবু, সাবুল, সুন্দর গাড়া গ্রামের নইব মন্ডলের ছেলে জেকের আলী, নওদাপাড়া এলাকার ছলিম উদ্দিনের রবিউল ইসলাম, শেরপাড়া এলাকার ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী, খোশবার আলীর ছেলে ছইমুদ্দিন, বাহাদুরপুর গ্রামের সামছের আলীর ছেলে আদম আলী এবং কচুয়া গ্রামের অছিমুদ্দিনের ছেলে আলাল উদ্দিন ও আতাউর রহমান।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সহযোগি আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী নাটোরের লালপুর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে ছাত্রলীগ কর্মি মোয়াজ্জেম হোসেন খান্নাসকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে তৎকালীন বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের সন্ত্রাসীরা। এঘটনায় নিহতের বাবা শুকুর মৃধা বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামী করে লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন তদন্ত শেষ করে ১৮জনের নামে চার্জশীট দাখিল করেন। এছাড়া এই মামলায় হামিদুল ইসলাম, আব্দুল খলিল, আব্দুল জলিল, ফারুক হোসেন এবং আবেদ আলীকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ৫জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক দীর্ঘ দেড় ঘন্টা শুনানি করে মামলার রায় ঘোষনা করেন। এসময় আদালতে নিহতের পরিবার সহ এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহযোগি আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছাত্রলীগ কর্মি মোয়াজ্জেম হোসেন খান্নাসকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে। সে সময় বেশ কিছু বাড়ি ঘরে হামলা চালায় তারা। পরবর্তীতে বিএনপি ও তাদের সন্ত্রাসীরা মামলা করতে বাধা দেয়। সে সময় সড়ক অবরোধ করে রাখলে মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কিন্তু মামলায় অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল। যার কারনে প্রত্যাশিত রায়ের প্রতিফলন হয়নি। আমরা পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে মামলা নিয়ে লড়াই করবো।
তবে আসামী পক্ষের আইনজীবী আতিকুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, আমার মক্কেলরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

Check Also

শ্রীনগরে হাতুড়ির আঘাতে স্কুলছাত্র নিহত

যমুনা নিউজ বিডি: মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হাতুড়ির আঘাতে মো. রিফাত দেওয়ান (১৭) নামে …

Powered by themekiller.com