Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিন

দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অনেক দিন ধরেই ঋণের নামে রীতিমতো লুটপাট চলে আসছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এবং গত ১০ বছরে তা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। অবশ্য এ সময়ে বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণও বেড়েছে কয়েক গুণ। তা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধিকে ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা একটি অশনিসংকেত হিসেবেই দেখছেন। আরো উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আগে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই খেলাপি ঋণের এই সংস্কৃতি প্রবল ছিল, এখন সে পথে পা বাড়াচ্ছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোও। তাই বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দেশের আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষার তাগিদেই অবিলম্বে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির এই প্রবণতা রোধ করতে হবে।

কিছুটা কম সুদে আমানত নেওয়া এবং অপেক্ষাকৃত বেশি সুদে ঋণ দেওয়াটাই ব্যাংকের কাজ। দুই সুদের পার্থক্য থেকেই ব্যাংক তার লভ্যাংশ আদায় করে। আর ব্যবসায়ীরাও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাঁদের পুঁজির ঘাটতি মেটান এবং ব্যবসা পরিচালনা করেন—এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো কোনো কোনো ব্যবসায়ী দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন এবং তাঁর ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা না-ও থাকতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ঋণখেলাপি হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং তা সব সময়ই ছিল। সেসব ক্ষেত্রে ব্যাংক বন্ধকি সম্পত্তি নিলাম করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। কিন্তু বর্তমানে একটি ভিন্ন চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন পরিকল্পিতভাবেই ঋণখেলাপি হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পুরোটাই লোপাট করে দিতে চাইছে। ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা এবং ব্যাংকগুলোর কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক যোগসাজশের কারণে ঋণের নিরাপত্তা চিন্তা না করেই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবও এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। এভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়ছে। প্রতিবছরই বাজেটে জনগণের অর্থ থেকে এসব ব্যাংকের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, ২০১৭ সালে তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এমনকি বিদেশি ব্যাংকগুলোরও খেলাপি ঋণ ছিল দুই হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে জালিয়াতি করে ঋণ দেওয়া ও নেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, বিশেষজ্ঞরা তাকে লুটপাট হিসেবেই দেখছেন। এর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে উত্তরোত্তর তা আরো বাড়বে। এ জন্য অর্থঋণ আদালতের মামলাজট কমাতে হবে। উচ্চতর আদালতে বিশেষ বেঞ্চ সৃষ্টি করে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি সরকারকে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।

Check Also

কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি রাখতে হবে

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অব্যাহত তৎপরতার কারণে জঙ্গি কর্মকাণ্ড এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তবে তার অর্থ এই …

Powered by themekiller.com