Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / দ্রুত এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

দ্রুত এগিয়ে যাক বাংলাদেশ

২০১৯ সাল শুরু হয়েছে অনেক সুসংবাদ নিয়ে। তার মধ্যে একটি বড় সুসংবাদ হচ্ছে, বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে দুই ধাপ এগিয়ে ৪১তম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০১৯ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এখন বাংলাদেশ। আর এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত দুই সরকারের আমলে দেশে যে ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে, সেটিই মূল ভূমিকা পালন করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নতুন সরকারের সদস্যরা। মানুষের আশাবাদী চোখ তাকিয়ে আছে তাঁদের কর্মকাণ্ডের দিকে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) প্রতিবছর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল প্রকাশ করে। এতে বর্তমান অবস্থান নির্ণয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। সিইবিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১৫ বছর তাৎপর্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের। এ সময় ১৯ ধাপ এগিয়ে ২০৩৩ সালে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। এই লক্ষ্য অর্জনের একটি ধারাবাহিক সময়ক্রম যুক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তাতে পূর্বাভাস রয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ হবে ৩৬তম এবং ২০২৮ সালে হবে ২৭তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। একসময় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে খ্যাত হওয়া বাংলাদেশের জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কী হতে পারে! প্রতিবেদনে এ বছর বিশ্বের প্রধান পাঁচটি দেশের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে তার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তার পরই রয়েছে চীন, জাপান, জার্মানি ও ভারত। সিইবিআর মনে করে, একুশ শতক হবে এশিয়ার শতক, ২০৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যাবে চীন। এশিয়ার আরো কিছু দেশ ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে যাবে।

৩০ লাখ শহীদের রক্তে কেনা বাংলাদেশের লক্ষ্যও ছিল এমনই। বঙ্গবন্ধুও স্বপ্ন দেখতেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত এক সোনার বাংলাদেশের। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের কর্তৃত্ব চলে গিয়েছিল স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শক্তির হাতে। ফলে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন থমকে যায়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে। শুরু হয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির কাজ। কিন্তু ষড়যন্ত্রের জাল থেমে থাকে না। ২০০১ সালে স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ আবার থমকে যায়। দেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, অরাজকতা আবার সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠে। দেশ পিছিয়ে যায় অনেকটা পথ। ২০০৮ সালে আবার এক ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এবার শক্ত হাতে সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যান তিনি। তারই ফল ফলছে—অর্থনীতির নানা সূচকে বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রগতি। আমরা আশা করি, তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বে মর্যাদাশীল একটি দেশে পরিণত হবে।

Check Also

আবার সক্রিয় হচ্ছে ডাকসু

আইনগত বাধা কেটে যাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পথ খুলে গেছে। …

Powered by themekiller.com